একই প্যান ব্যবহারে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তিতে বেনিয়ম নিয়ে চাঞ্চল্য

একই প্যান ব্যবহারে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তিতে বেনিয়ম নিয়ে চাঞ্চল্য

গুরুগ্রামের বাদশাহপুর তহসিলে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি কেনাবেচায় এক অভূতপূর্ব অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি তদন্তে নেমে আয়কর বিভাগ দেখেছে যে, গত দুই বছরে অন্তত ২৫ হাজার সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে মাত্র একটি প্যান নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১২ হাজার সম্পত্তির লেনদেনের কোনো তথ্যই খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৩০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সম্পত্তি কেনাবেচায় আয়কর দপ্তরে ‘স্টেটমেন্ট অফ ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজ্যাকশনস’ বা এসএফটি রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, হরিয়ানা সরকারের দেওয়া তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বিশাল অঙ্কের এই লেনদেনে কর ফাঁকির চূড়ান্ত প্রমাণ না মিললেও, বড় ধরনের কোনো অর্থনৈতিক কারচুপি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দপ্তর।

এই ব্যাপক অনিয়মের শেকড় খুঁজতে চণ্ডীগড়ের আয়কর ডিরেক্টরেট সাত সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই দলটি তহসিল অফিসের নথিপত্র এবং সরকারের জমা দেওয়া রাজস্ব সংক্রান্ত তথ্যের সাথে আয়কর দপ্তরের মূল হিসেব মিলিয়ে দেখছে। ঘটনাটিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার তহসিলদার ও নায়েব তহসিলদারদের ভূমিকাও কড়া নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকরা উচ্চমূল্যের রেজিস্ট্রেশনের সময় কেন প্যান সঠিক উপায়ে যাচাই করেননি বা তথ্য গোপন রেখেছিলেন, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদাসীনতা, ইচ্ছেকৃত প্রতারণা নাকি কম্পিউটার পোটালের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এমনটা হয়েছে, পুরো বিষয়টি এখন আয়কর বিভাগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তাধীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *