দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মাত্র ৫ টাকায় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’! নাম শুনেই চোখ কপালে দর্শনার্থীদের

দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মাত্র ৫ টাকায় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’! নাম শুনেই চোখ কপালে দর্শনার্থীদের

দুর্গাপুর: পুজোর মরশুমে দুর্গাপুরের প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে এখন উপচে পড়া ভিড়। আর সেই ভিড়ের মাঝেই এক অদ্ভুত চমক নিয়ে হাজির হয়েছে মাত্র ৫ টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’! শুনতে অবাক লাগলেও দুর্গাপুরের মার্কনী দক্ষিণ পল্লীর পুজো মণ্ডপের সামনে এই চিত্র দেখে থ বনে যাচ্ছেন সাধারণ দর্শনার্থীরা।

আসলে এটি কোনও সরকারি ভাতা বা প্রকল্প নয়; এটি একটি মুখরোচক চিপসের প্যাকেট! মণ্ডপের সামনের এক মহিলা বিক্রেতার পসরায় সাজানো এই চিপসের প্যাকেটে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। সরকারি জনপ্রিয় প্রকল্পের নাম হুবহু ব্যবহার করার এই অভিনব ও চতুর বিপণন কৌশল (Marketing Strategy) এখন পুজো মণ্ডপ চত্বরে এক নতুন কৌতূহল ও উদ্দীপনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সাধারণত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ শুনলেই মানুষের মাথায় আসে সামাজিক সুরক্ষা বা আর্থিক সহায়তার কথা। কিন্তু দুর্গাপুরের এই প্যাকেটে কোনও টাকা নয়, মিলছে মচমচে চিপস। দাম মাত্র ৫ টাকা হওয়ায় আট থেকে আশি—সকলেরই নজর কাড়ছে এই বিশেষ প্যাকেট।

পুজোর আনন্দে মেতে ওঠা খুদেদের বায়না মেটাতে অভিভাবকদের পকেটেও বিশেষ টান পড়ছে না। ফলে অভিভাবকরাও বেশ আনন্দের সঙ্গেই বাচ্চাদের কিনে দিচ্ছেন এই চিপস। বিক্রেতা জানান, অদ্ভুত নাম ও সাশ্রয়ী দামের কারণে শিশুদের মধ্যে এর চাহিদা এখন তুঙ্গে। পুজোর ভিড়ে বিক্রিও হচ্ছে দেদার।

তবে নামের মিল থাকলেও আসল সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে এই চিপসের দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনও যোগসূত্র নেই। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল এ বিষয়ে জানান, সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে এই মুখরোচক খাবারের বিন্দুমাত্র যোগাযোগ নেই। তবে এই চতুর মার্কেটিং দেখে তারাও বেশ মজা পেয়েছেন এবং খুদেদের মধ্যে এর আকাশছোঁয়া চাহিদা দেখে অবাক হয়েছেন। তাঁর মতে, এমন আকর্ষণীয় নাম ব্যবহার করার ফলেই চিপসটি এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, সরকারি প্রকল্পের নামের এই মিষ্টি ছোঁয়া আর পাঁচ টাকার চমকই এখন দুর্গাপুরের পুজোর বাজারের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হয়ে উঠেছে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *