পুজোর আনন্দেও রক্তসঙ্কট নেই! রাত ৮টা পর্যন্ত ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তদানের বড় নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের

উৎসবের মরশুমে রাজ্যে রক্তের জোগান সচল রাখতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নামল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। পুজোর আনন্দ ও ব্যস্ততার মাঝে যাতে রক্ত কিংবা রক্তের কোনো উপাদানের ঘাটতি না দেখা দেয়, সেই লক্ষ্যেই স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোকে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবনের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পুজোর দিনগুলোতে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে, সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোতে রাত আটটা পর্যন্ত রক্তদানের সুব্যবস্থা চালু রাখতে বলা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ছুটির আমেজেও খুব সহজেই রক্তদান করতে পারেন। এছাড়া, বিরল রক্তের গ্রুপের সন্ধান পেতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কলকাতার বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সবসময়ই বেশি থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন জেলা থেকে নানা জটিল রোগী রেফার হয়ে আসায় মহানগরে রক্তের চাহিদা অন্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাপ সফলভাবে সামাল দিতে পুজোর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কলকাতায় অতিরিক্ত রক্ত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ এবং মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এই সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, উৎসবের কদিন স্বেচ্ছাসেবা ও রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে প্রতিবারই রক্তের একটা সঙ্কট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্য ভবনের এই আগাম পরিকল্পনা এবং নতুন নিয়মগুলো সেই পুরনো ঘাটতির ছবিটা কতটা বদলাতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।