পুজোর ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া আপনজনকে খুঁজবে ‘বন্ধু কলকাতা’! পঞ্চমী থেকেই রাস্তায় নামছে ১০টি স্পেশাল গাড়ি

পুজোর ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া আপনজনকে খুঁজবে ‘বন্ধু কলকাতা’! পঞ্চমী থেকেই রাস্তায় নামছে ১০টি স্পেশাল গাড়ি

দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) আনন্দ ও উন্মাদনার মাঝে ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পথ হারিয়ে ফেলা এক পরিচিত চিত্র। প্রতি বছরই পুজোয় বহু শিশু এবং প্রবীণ মানুষ তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এই ধরণের অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে অভিনয় উদ্যোগ নিয়েছে ‘বন্ধু কলকাতা’। আজ, পঞ্চমী বিকেল থেকেই শহরের রাজপথে নেমে পড়ছে তাদের বিশেষ দল।

কী করবে ‘বন্ধু কলকাতা’?

আজ লালবাজারে ‘বন্ধু কলকাতা’র ১০টি বিশেষ গাড়ির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাই এই গাড়িগুলির যাত্রার সূচনা করেন। জানা গিয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে এই গাড়িগুলি শহর কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ ও জনবহুল এলাকায় টহল দেবে।

লালবাজার সূত্রে জানানো হয়েছে, পুজোর বিপুল ভিড়ের কারণে শিশু ও প্রবীণরা প্রায়শই বিপাকে পড়েন। মণ্ডপের চত্বরে বা রাস্তার ভিড়ে হারিয়ে গিয়ে তাঁরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এনজিও

এই মহৎ উদ্যোগে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি রাজ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর এবং একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতিটি গাড়িতে একজন করে সাব-ইনস্পেক্টর বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর, একজন মহিলা কনস্টেবল, একজন কনস্টেবল এবং একজন এনজিও কর্মী মোতায়েন থাকবেন।

শিশুদের মন জয় করতে বিশেষ ব্যবস্থা

প্রতিদিন বিকেল চারটে থেকে শহরজুড়ে ঘুরবে ‘বন্ধু কলকাতা’র এই গাড়িগুলি। নিখোঁজ বা ভীতসন্ত্রস্ত শিশুদের ভয় কাটাতে এবং তাদের মন জয় করতে গাড়ির ভেতরটা বেলুন দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। এছাড়া গাড়িতে মজুত থাকবে চিপস, চকোলেট ও নানা রকম খাবার, যা হারিয়ে যাওয়া শিশুদের শান্ত করার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

কীভাবে মিলবে সাহায্য?

গাড়িতে থাকা পুলিশকর্মীরা নিখোঁজ শিশু ও প্রবীণদের সঙ্গে অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন আচরণ করবেন। তাঁরা শহরের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে ঘুরে দেখবেন কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন কি না। কোনও শিশু বা প্রবীণকে উদ্ধার করা হলে তাঁদের প্রথমে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। শিশুদের রাখা হবে বিশেষভাবে প্রস্তুত থানার শিশুবান্ধব ঘরে। থানার মহিলা পুলিশকর্মীরা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তাঁদের দেখভাল করবেন।

পাশাপাশি, নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করবে এই টিম। পুজো মণ্ডপে থাকা কোনো অভিভাবক যদি প্রিয়জন হারানোর অভিযোগ জানান, তবে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হবে এবং সেখান থেকেই শহরের সমস্ত থানায় বার্তা পাঠিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া নিশ্চিত করা হবে।

উৎসবের এই আনন্দঘন দিনগুলিতে ভিড়ের মাঝে কেউ যেন হারিয়ে না যায় এবং হারিয়ে গেলেও যাতে নিরাপদে আপনজনদের কাছে ফিরে আসতে পারে, সেই সুরক্ষার চাদর বিস্তার করতেই এবার পথে নামল ‘বন্ধু কলকাতা’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *