দিল্লির কনট প্লেসে তেরঙা মার্চ: স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট, কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকল প্রশাসন!

দিল্লির কনট প্লেসে তেরঙা মার্চ: স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট, কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকল প্রশাসন!

দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে আগামীকাল শুক্রবার নির্ধারিত ‘জাতীয় পতাকা ওড়ানো’ প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দিল্লি হাইকোর্টকে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

একই সঙ্গে, সিজেপি (CJP) নেতা অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই বিতর্কিত কর্মসূচির ওপর কোনো স্থগিতাদেশ জারি করতে রাজি হয়নি আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ নভেম্বর, ২০২৬।

ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তি ও হাইকোর্টের অবস্থান

বিচারপতি নিতিন সাম্ব্রের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। কনট প্লেসের পালিকা বাজারের ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা প্রস্তাবিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের মূল উদ্বেগ ছিল— সেন্ট্রাল পার্ক কোনো বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের নির্দিষ্ট স্থান নয়। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় পুলিশি ব্যারিকেড ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি হলে সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী এবং যান চলাচলের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে, দশেরার এই সপ্তাহান্তে এমন কর্মসূচি চললে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদালতকে জানান, সেন্ট্রাল পার্কের মাঝখানে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবসা বিঘ্নিত হবে। তাই কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করার আর্জি জানানো হয়।

তবে আদালত আপাতত এই কর্মসূচিতে কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি আদালতের নথিতে রেকর্ড করা হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর এবং অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তেরঙা মার্চের ডাক ও অভিজিৎ দীপকের অবস্থান

অন্যদিকে, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সাধারণ মানুষকে এই তেরঙা মার্চে যোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীপকের দাবি, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো একটি সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে আশুতোষ ও সৌরভ নামে দু’জনকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সাফ কথা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন কোনো অপরাধ হতে পারে না। এই লড়াইয়ে রাজনৈতিক দল এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এক ভিডিও বার্তায় দীপক বলেন, “আমি সকলকে আবেদন করছি, আগামীকাল বিকেল ৫টায় আমাদের তেরঙা মার্চে যোগ দিন। আমাদের জাতীয় পতাকার চেয়ে বড় কিছু নেই।” এমনকি দিল্লির বাইরের মানুষদের উদ্দেশ্যেও নিজ নিজ শহরে সন্ধ্যায় জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই মার্চ আয়োজনের ডাক দিয়েছেন তিনি। এই কর্মসূচির জেরে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, নিজের অবস্থান থেকে একচুলও পিছপা হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই নেতা।

উপসংহার:

এই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কনট প্লেস ও তার আশেপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির আগে ১৬ তারিখের এই কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *