ঋতব্রত-অরূপের সমর্থনে হলফনামা আদায়ের চেষ্টা! রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ সাংসদ দোলা সেনের

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পরিচয় ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে চলা আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই এ বার রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলল মমতাপন্থী শিবির। পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের গোষ্ঠীর সমর্থনে জোর করে হলফনামা আদায়ের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। এই মর্মে বুধবার তিনি রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক (ডিজি) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠির একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশনেও পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ দোলা সেনের দাবি, রাজ্যের প্রতিটি থানার ওসি এবং আইসি-দের ওপর তৃণমূলের সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও ১১০০-র বেশি হলফনামা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রত ও অরূপের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সমর্থনে ওই হলফনামাগুলোতে সই করাতে পুলিশ আধিকারিকেরা বলপ্রয়োগ ও নিজেদের প্রভাব খাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর। এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করে পুলিশকর্তাদের অবিলম্বে এ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্ব ও আদালতের নির্দেশ তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও ‘ঘাসফুল’ প্রতীক নিয়ে মূলত নির্বাচন কমিশনে এই বিবাদ শুরু হয়। দোলা সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দাবি ছিল— ২০২৬ সালের ২২ জুন তাঁদের উদ্যোগে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস পুনর্গঠিত হয়েছে, তাই ওই প্রতীক ব্যবহারের অধিকার তাঁদেরই রয়েছে। এই বিবাদের শুনানির পর নির্বাচন কমিশন প্রতীকটি ‘ফ্রিজ়’ (স্থগিত) করে দেয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে আলাদা প্রতীক বরাদ্দ করে।
কমিশনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দোলা সেনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে তিন মাসের মধ্যে এই বিবাদের নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সব পক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা ও অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এই আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই পুলিশকে দিয়ে জোর করে হলফনামা সংগ্রহের অভিযোগ সামনে এল।
আইনি পরিণতির হুঁশিয়ারি ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া চিঠিতে দোলা সেন আবেদন জানিয়েছেন, পুলিশ যেন কোনও রাজনৈতিক নির্দেশ বা প্রতিহিংসার বশে কাজ না করে। অবিলম্বে এই হলফনামা সংগ্রহের প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন যে, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের ভবিষ্যতে আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, পুলিশ যে খসড়া হলফনামা নোটারি করানোর চেষ্টা করছে, তার প্রমাণও চিঠির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে রাজ্য সরকার বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “পাগলের প্রলাপের তো কোনো জবাব হয় না। তবে অসংলগ্ন কথা এবং কল্পনার গল্প ফাঁদতে গিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা আমরা শুনেছি। যাঁরা এই ধরনের ভিত্তিহীন কথা বলছেন, আমরা আইনি পথেই তাঁদের মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”