সেনাপ্রধান ইরানে, পার্লামেন্টে বিদেশমন্ত্রী! ‘একটুও লজ্জা নেই?’ তোপ দেগে পাকিস্তান সরকারকে তুলোধোনা বিরোধীদের

ইরানে সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক এবং ইরানের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন। যেখানে সৌদি ও তুরস্কের পক্ষ থেকে তাদের নিজ নিজ দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও গোয়েন্দা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন, সেখানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন খোদ সেনাপ্রধান আসিম মুনির। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মহাগুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী খাজা আসিফ উপস্থিত না থেকে দেশের পার্লামেন্টেই বসেছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে এবং দেশটির নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পাকিস্তানের বিরোধী দল জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল-এর প্রধান মওলানা ফজলুর রহমান পার্লামেন্টেই এই বিষয়টিকে সামনে এনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ইরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে, অথচ দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা পার্লামেন্টে বসে আছেন, এতে কি একটুও লজ্জা করে না? তাঁর এই তীব্র মন্তব্যের পর বিরোধী দলের অন্দরে হাসির রোল ও প্রতিবাদের সুর চড়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে শাহবাজ শরিফের সরকার নামমাত্র ক্ষমতায় থাকলেও আদতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের হাতেই বন্দি রয়েছে।