স্বাধীনতার আগেই বিপ্লব! দলিত ও আদিবাসীদের সমান অধিকার দিয়ে কীভাবে ইতিহাস গড়েছিল সিন্ধিয়া রাজপরিবার?

স্বাধীনতার বহু পূর্বেই সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের অধিকার নিশ্চিত করতে নজির গড়েছিল গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া রাজপরিবার। ১৯৪৫ সালের ৪ মে মহারাজা জীবাজিরাও মাধবরাও সিন্ধিয়া এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় তৎকালীন অস্পৃশ্যদের সমান মৌলিক অধিকার প্রদানের নির্দেশ দেন। এর ফলে দলিত সম্প্রদায় মন্দিরে প্রবেশ, সরকারি জলাশয় ও কুয়োর জল ব্যবহার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে যানবাহন ব্যবহারের অধিকার পায়। এমনকি, এই স্বাধীনতায় বাধা দিলে কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি, বদোদরা ও কোলহাপুরের মতো রাজপরিবারগুলিও একইপথে হেঁটে সাম্যের লড়াইকে বেগবান করেছিল।
শিক্ষা প্রসারে সিন্ধিয়া রাজপরিবার আদিবাসী শিশুদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৯৩৮ সালের মধ্যেই ভিল, ভিলালা ও সাহারিয়া সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য একাধিক স্কুল, বিনামূল্যের হস্টেল এবং বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়। স্বাবলম্বী করতে দেওয়া হতো কারিগরি প্রশিক্ষণও। পিছিয়ে পড়া মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু এবং ডঃ বি আর আম্বেদকরের মতো ব্যক্তিত্বদের উচ্চশিক্ষায় বদোদরার মহারাজার সাহায্য—এসবই প্রমাণ করে যে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগেই দেশে সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার সূচনা হয়েছিল।