কালীপুজোর মুখে কি ভাসবে বাংলা? ঘূর্ণিঝড় আর দখিনা বাতাসের জোড়া ফলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস!

কালীপুজোর মুখে কি ভাসবে বাংলা? ঘূর্ণিঝড় আর দখিনা বাতাসের জোড়া ফলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস!

তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাশু’ পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেকটা দূরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে সরে গেলেও তার পরোক্ষ প্রভাবে মেঘলা হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ। সোমবার থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টি শুরু হয়েছে; দমদমে বিকেল পর্যন্ত ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ দখিনা বাতাস এবং শুষ্ক পশ্চিমি বাতাসের মুখোমুখি সংঘাতের জেরে বায়ুমণ্ডলে বৃষ্টির অনুকূল মেঘ তৈরি হচ্ছে। এর ফলেই উৎসবের মরশুমে আবহাওয়ায় এই অস্থিরতা।

মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার বেশ কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার পার্বত্য অঞ্চলের কিছু অংশেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বুধবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে এবং আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে মূলত শুকনো আবহাওয়া বজায় থাকবে।

সপ্তাহের শেষে কালীপুজো ও দীপাবলির দিনগুলিতে দুর্যোগের খাঁড়া নামবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, কালীপুজোর আশপাশে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, তবে ভারী বা টানা বর্ষণের আশঙ্কা আপাতত নেই। এদিকে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী ৬ নভেম্বরের পর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত দানা বাঁধতে পারে। সেই ঘূর্ণাবর্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে চলতি সপ্তাহের পরবর্তী বুলেটিনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *