রক্তের তীব্র আকালে ধুঁকছে রাজ্যের ব্লাড ব্যাঙ্ক, চরম সঙ্কটে রোগী পরিষেবা

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র রক্তের সংকট। চাহিদার তুলনায় জোগান তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা। প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হলেও ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে মজুত অত্যন্ত সীমিত, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা।
রক্তের এই আকালের সরাসরি প্রভাব পড়ছে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী, ক্যানসার আক্রান্ত, জটিল অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা রোগী এবং পথদুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের ওপর। রক্ত না পেয়ে রোগীর পরিজনদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই রক্তদাতাকে সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য পরিজনদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও একই সংকট তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসা মহলের মতে, এই পরিস্থিতির নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, দুর্গাপূজার মরসুমে রাজ্যজুড়ে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে বিভিন্ন ক্লাবে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণত রাজ্যের সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে সংগৃহীত রক্তের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে ক্লাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আয়োজিত শিবির থেকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরনো কমিটি নিষ্ক্রিয় এবং নতুন কমিটি এখনও পুরোদমে কাজ শুরু করতে না পারায় এই রক্তদান শিবিরগুলি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরের এই অচলাবস্থা দ্রুত কাটিয়ে নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজন করা না গেলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। অবিলম্বে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।