চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে বড় পদক্ষেপ, বৈঠকে দুই মন্ত্রী!

জগদ্ধাত্রী পুজোয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ রাজ্য সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদন, চন্দননগর: চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে ‘রাজ্য উৎসব’ হিসেবে ঘোষণার পর, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি চন্দননগরে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে পুজোর খ্যাতি বৃদ্ধি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত দুই মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার কারণে প্রতি বছরই চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় বিপুল জনসমাগম হয়। সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতায় দুর্গাপুজোর সময় ভিড়ের কারণে অনভিপ্রেত দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে, চন্দননগরের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। অর্থমন্ত্রী জানান, চোরবাগানের ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জগদ্ধাত্রী পুজোয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী আলোকসজ্জাকে আরও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে এবং স্থানীয় আলোকশিল্পীদের যোগ্য মর্যাদা ও কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে পুরমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে আগের সরকার আলোকশিল্পীদের উন্নয়নে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান সরকার চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের প্রকৃত উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁদের কাজে লাগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রশাসনিক এই বৈঠকে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে:
১. জগদ্ধাত্রী ও ছটপুজোকে কেন্দ্র করে গঙ্গাপাড়ের সৌন্দর্যায়ন ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
২. চন্দননগরের ফরাসি স্থাপত্যকে সংস্কার ও সুসজ্জিত করা।
৩. স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ গ্যালারি নির্মাণ।
বৈঠকে জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জগদ্ধাত্রী পুজোর পাশাপাশি ছটপুজো, কালীপুজো ও কার্তিক পুজোর সময় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও প্রশাসনকে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকটি পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।