লাল সন্ত্রাস মুক্ত ছত্তিশগড়! পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুললেন অমিত শাহ

নকশালমুক্ত বস্তারে পর্যটন ও শিল্পের নতুন দিগন্ত: বদলে যাচ্ছে ছত্তিশগড়ের চিত্র
দীর্ঘদিনের নকশাল সহিংসতার অন্ধকার কাটিয়ে ছত্তিশগড়ের বস্তারসহ বিভিন্ন অঞ্চল এখন শান্তি ও উন্নয়নের পথে হাঁটছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে চিত্রকূট ও তীর্থগড় জলপ্রপাত, কাঙ্গের ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক এবং মা দন্তেশ্বরী মন্দিরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পাওয়ার অপেক্ষায়। শান্তি ফিরে আসায় পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় যুবসমাজের সামনে অগ্রগতির দরজা খুলে দিয়েছে।
আদিবাসী অর্থনীতির রূপান্তর ও উন্নয়ন সংকল্প
পর্যটনের প্রসারের ফলে ছত্তিশগড়ের হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে, যা প্রত্যক্ষভাবে গ্রামীণ ও আদিবাসী অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাইয়ের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আগামী দশ বছরের মধ্যে ছত্তিশগড়কে সমৃদ্ধির শিখরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পন্থী, পাণ্ডবাণী ও রাউত নাচার মতো লোকসংস্কৃতি এবং আদিবাসী ক্রীড়া প্রতিভাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্মৃতিচারণ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ২০০০ সালে অটলজির হাত ধরে যে রাজ্যের পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ তা উন্নয়নের নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছে। সহিংসতার বদলে এখন সমৃদ্ধিই রাজ্যের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘মহাতারী বন্দন যোজনা’-র কিস্তি প্রদানের পাশাপাশি গুণীজনদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা ছত্তিশগড়ের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
এক ঝলকে
- নকশাল সহিংসতা মুক্ত হয়ে বস্তার অঞ্চল এখন পর্যটন ও বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।
- পর্যটন শিল্পের বিকাশে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আদিবাসী হস্তশিল্পের বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- পরবর্তী এক দশকে ছত্তিশগড়কে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
- বস্তার অলিম্পিক ও লোকসংস্কৃতির প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।