যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ১২ বিলিয়ন ডলারের মহাউৎসবে কে কার দিকে কত অর্থ ঢালল?

নির্বাচনী ব্যয়ের নতুন রেকর্ড: শীর্ষ দাতা ইলন মাস্ক, ব্যয়ের পরিমাণ ৫০ কোটি ডলার ছাড়াল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের ঝনঝনানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৯৫০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ এই ব্যয়ের শীর্ষে রয়েছেন ধনকুবের ও ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক, যিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন।
রেকর্ড গড়া ব্যয় ও দাতাদের প্রভাব
নির্বাচনী অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ মাইকেল বেকেলের মতে, এবারের নির্বাচনে ব্যয়ের মাত্রা সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। তথ্যানুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শীর্ষ ৪০ জন দাতা প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। এর মধ্যে ইলন মাস্কের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি মূলত তার প্রতিষ্ঠিত ‘আমেরিকা প্যাক’ (Super PAC) এবং ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ড’-এর মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করছেন। মাস্কের ব্যয়ের একটি বড় অংশ টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে বড় দাতাদের তালিকায় রয়েছেন ব্যবসায়ী মাইকেল ব্লুমবার্গ, যিনি ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া জর্জ সোরোসের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন সংস্থা উদারপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রদান করেছে। রিপাবলিকানদের সমর্থনে জেফ ইয়াস এবং রিচার্ড ও এলিজাবেথ উইলাইনের মতো বিলিয়নেয়াররাও ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
অর্থ ব্যয়ের খাত ও ধরন
মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্যাক ও সুপার প্যাকগুলো সরাসরি প্রার্থীদের অর্থ দিতে না পারলেও পরোক্ষভাবে তাদের সমর্থন করার জন্য সীমাহীন তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পায়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সংগৃহীত তহবিলের সিংহভাগই ব্যয় হচ্ছে বিজ্ঞাপনের পেছনে। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাস পর্যন্ত কেবল বিজ্ঞাপনেই ১১.১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। প্রথাগত টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনেও ব্যয়ের হার ক্রমবর্ধমান। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কর্মী নিয়োগ, ভোটারদের কাছে পৌঁছানো এবং অভ্যন্তরীণ জরিপ পরিচালনায় এই বিশাল অর্থের বড় একটি অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
ওপেন সিক্রেটস-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, সব হিসাব শেষে এবারের নির্বাচনে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১১.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। নির্বাচনী প্রচারণার এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ধনী দাতা ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণকেই নির্দেশ করছে।
উল্লেখ্য যে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ আগাম ভোট প্রদান করেছেন। সম্পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।