৩০ কোটি কাজের টার্গেট পূরণ হবে কি, নাকি থমকে যাবে রাজ্যের স্বপ্ন!

৩০ কোটি কাজের টার্গেট পূরণ হবে কি, নাকি থমকে যাবে রাজ্যের স্বপ্ন!

 

গ্রামীণ থানার পরিকাঠামো উন্নয়নে ‘১২৫ দিনের কাজ’কে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ‘১২৫ দিনের কাজ’ বা গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গ এবার পরিকাঠামোগত উন্নয়নে এই প্রকল্পের ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিল। রাজ্যের গ্রামীণ থানাগুলির পাঁচিল নির্মাণ, সারাই এবং আনুষঙ্গিক পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণে এই প্রকল্পের তহবিল ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।

এই প্রকল্পের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করতে আজ, বুধবার বিধাননগরে পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে বিডিও স্তর পর্যন্ত একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগেই জেলাগুলিতে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, থানার সীমানা পাঁচিল, কমিউনিটি হল, গাড়ি রাখার ছাউনি, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, সৌরবাতি এবং শৌচাগার তৈরির কাজে এই বরাদ্দ ব্যবহার করা হবে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এর মাধ্যমে মোট ২৫০টি পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘ সাড়ে চার বছর রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় জব হোল্ডারদের একটি বড় অংশ পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কর্মরত। স্থানীয় স্তরে কাজের গতি ফিরিয়ে আনতেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পর এবার থানাগুলোর উন্নয়নে ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কাজের বন্টন ও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সর্বোচ্চ ২২টি করে কাজের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানে ৪টি এবং কালিম্পং ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে ৩টি করে কাজ হবে। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে থানাগুলির পরিকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে এই স্থায়ী সম্পদ বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য অর্থ কমিশন, স্বচ্ছ ভারত মিশন, রাজ্যের রাজস্ব, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) এবং সাংসদ-বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহারেরও ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নের দাবি, গ্রামীণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা আরও কার্যকর করতেই এই পরিকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *