৮০ দেশে বিস্তার আরএসএস-এর! বিশ্বজুড়ে বাড়ছে কি প্রভাব?

আরএসএস আন্তর্জাতিক সংগঠনের পথে নয়, স্পষ্ট করলেন দত্তাত্রেয় হোসবালে; সংগঠনের ব্যাপক বিস্তারের খতিয়ান পেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কোনো আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সংগঠনের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবালে। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে সংঘের প্রতিনিধি ও কর্মীরা প্রেরণার উৎস হিসেবে সমাজকল্যাণমূলক কাজ করছেন, তবে এর আড়ালে কোনো আন্তর্জাতিক শাখা খোলার উদ্দেশ্য নেই।
সংগঠনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের খতিয়ান পেশ করতে গিয়ে হোসবালে জানান, সংঘের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে দেশ ও বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সমর্থন জুগিয়েছেন। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের তিনটি দেশ সফর এবং নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি অত্যন্ত সফল হয়েছে।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সক্রিয় ভূমিকা
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংঘের সেবামূলক কাজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সরকার্যবাহ। তিনি জানান, আসামের সাম্প্রতিক বন্যায় ৮০৫টি গ্রামের প্রায় ৬৭ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ১,৬০০ জন স্বয়ংসেবক। জনসহযোগিতায় এই দুর্যোগে ৫ কোটি টাকারও বেশি ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এবং লখনউ ও চিত্রকূটে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংঘের কর্মীরা ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন।
সংগঠনের অভাবনীয় বিস্তার
আরএসএস-এর সাংগঠনিক কাঠামোর উন্নতির চিত্র তুলে ধরে হোসবালে জানান, বর্তমানে দেশজুড়ে ৯৯,৪২৩টি শাখায় সংঘের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ হাজার বেশি। বর্তমানে ৬৩,২০৮টি স্থানে সংঘের নিয়মিত কর্মকাণ্ড বিস্তৃত রয়েছে এবং নতুন করে ১০,২০০টি স্থানে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া দেশজুড়ে প্রায় ৬৫ হাজার ‘হিন্দু সম্মেলন’ আয়োজিত হয়েছে, যার মধ্যে শহরের বস্তি এলাকাতেই আয়োজিত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি সমাবেশ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
‘রিজিম চেঞ্জ’ ও তরুণ প্রজন্ম নিয়ে সতর্কতা
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ‘রিজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হোসবালে বলেন, “সমাজে অশান্তি বা হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করা দেশের স্বার্থবিরোধী। দেশকে ভাঙার বা বিভাজনের যে কোনো অপচেষ্টার আমরা তীব্র বিরোধিতা করি।”
তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মনের ভাষা বোঝা এবং তাদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করা জরুরি। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান মাদকের আসক্তির বিষয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাশাপাশি সংঘও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে দেশজুড়ে ব্যাপক সচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান। তরুণদের প্রতি তাঁর আহ্বান, কোনো অশুভ বা অরাজক শক্তি যেন দেশের ওপর প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।