ইতালির মেয়ে থেকে ভারতের পুত্রবধূ, সোনিয়া গান্ধীর সেই অজানা গল্পের সাক্ষী হতে প্রস্তুত তো!

সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনীতে অজানা আখ্যান: রাজীবের সঙ্গে প্রথম ডেট থেকে ক্ষমতার নেপথ্য কাহিনি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সোনিয়া গান্ধীর আসন্ন আত্মজীবনী নিয়ে রাজনৈতিক ও পাঠক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশনা সংস্থা হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া বইটির বেশ কিছু অংশ প্রকাশ্যে এনেছে, যা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।
বইটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে বেড়ে ওঠা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে ভারতীয় খাবারের প্রথম পরিচয় ঘটে রাজীব গান্ধীর হাত ধরেই। রাজীবের সঙ্গে প্রথম ডেটে তিনি প্রথমবার ‘তন্দুরি চিকেন’ চেখে দেখেছিলেন। বইটিতে বর্ণিত হয়েছে, ভারতীয় মশলাদার খাবারের সঙ্গে তাঁর সেই প্রথম অভিজ্ঞতার রোমাঞ্চকর স্মৃতি। পরবর্তী জীবনে গান্ধী পরিবারের অন্দরমহলের খাদ্যাভ্যাসেও তিনি নিজেকে মানিয়ে নেন, যেখানে ভাত-রুটির পাশাপাশি ‘অরহর ডাল’ ছিল নিত্যকার পাতে এক অপরিহার্য পদ।
সোনিয়া গান্ধীর এই আত্মজীবনীতে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের একাধিক অজানা অধ্যায়:
- কেমব্রিজের প্রেম ও পরিণয়: ১৯৫৫ সালে ইতালিতে জন্ম নেওয়া সোনিয়ার শৈশব, ১৯৬৫ সালে কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ, প্রেম এবং ভারতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে তাঁর বধূ হয়ে আসার যাত্রা।
- সাংস্কৃতিক লড়াই: ভিনদেশি পটভূমি থেকে এসে হিন্দি ভাষা শেখা, শাড়ি পরা রপ্ত করা এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ।
- ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি: ১৯৮০ সালে সঞ্জয় গান্ধীর বিমান দুর্ঘটনা, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৯১ সালে স্বামী রাজীব গান্ধীর প্রয়াণ—এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো মোকাবিলায় তাঁর মানসিক দৃঢ়তার বর্ণনা।
- রাজনীতি ও ত্যাগ: ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পরেও প্রধানমন্ত্রীর পদ প্রত্যাখ্যানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ।
উল্লেখ্য যে, বইটির প্রকাশনা নিয়ে শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও বর্তমানে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের সঙ্গে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা নিয়ে মতপার্থক্যের জেরেই এই পরিবর্তন ঘটে। রাজনীতি, প্রেম ও ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে মোড়া এই আত্মজীবনী ভারতীয় প্রকাশনা জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।