কাকভোরেও রাজপথে উপচে পড়া ভিড়, অলৌকিক প্রসাদ পেতে মানুষের এমন আকুতি আগে দেখেননি!

লেক কালীবাড়ির ঐতিহ্য ও মাহাত্ম্য: ভক্তের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু
নিজস্ব প্রতিবেদক: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী লেক কালীবাড়ির (শ্রীশ্রী ১০৮ করুণাময়ী কালীমাতা মন্দির) মাহাত্ম্য ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বছরের পর বছর ধরে অটুট রয়েছে। ১৯৪৯ সালের ১৩ই এপ্রিল তন্ত্রসাধক হরিপদ চক্রবর্তী এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিতাইচন্দ্র বসু।
মন্দিরের ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, শুরুর দিকে ছোট একটি মন্দিরে মাটির প্রতিমায় কালীপুজো হতো। পরবর্তীতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর হরিপদ চক্রবর্তী স্থায়ীভাবে মূর্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। শিষ্য আশীষ সেনগুপ্তর হাতে গড়া সেই প্রতিমার নিত্যপুজো শুরু হয় এবং ১৯৭৩ সালে কষ্টিপাথরের বর্তমান মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সময়ের সাথে সাথে মন্দিরের স্থাপত্যেও বিবর্তন এসেছে। শুরুতে খড়ের চালের ছোট ঘর থাকলেও পরে তা ইটের দেওয়াল ও টিনের চালে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে প্রখ্যাত মন্দির স্থপতি ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত অচ্যুত কানভিন্দে’র নকশায় ২০০২ সাল থেকে শ্বেতপাথরের মন্দিরের নির্মাণকাজ চলছে, যা ভক্তদের অনুদানে ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই মন্দিরের পূজা পদ্ধতি ও ভোগের বিশেষত্ব রয়েছে। এখানকার পুজোয় গঙ্গাজল ও তুলসিপাতা ব্যবহৃত হয় না। মন্দিরের খিচুড়ি, পোলাও ও পায়েস প্রসাদ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিদিন শত শত ভক্ত সান্ধ্য ভোগ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে কালীপুজোর পর ভোরবেলা প্রসাদ পাওয়ার জন্য ভক্তদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস, লেক কালীবাড়িতে এসে প্রার্থনা করলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয় এবং সমস্যার সমাধান মেলে। বিপদে পড়লে মায়ের স্মরণাপন্ন হওয়ার রীতি বহু পুরনো। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার আগে আশীর্বাদী বেলপাতা নিয়ে পরীক্ষা দিতে যায় এবং ফল প্রকাশের পর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পুজো দেয়। করুণাময়ী মায়ের এই মাহাত্ম্য শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশ ও বিদেশের ভক্তদের মাঝেও বিস্তৃত।