কেন শোচনীয়ভাবে হারল রিপাবলিকানরা!

কেন শোচনীয়ভাবে হারল রিপাবলিকানরা!

 

নির্বাচনী বিপর্যয়: যেসব কারণে আসন হারাল রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পেছনে বেশ কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা। ভোটারদের ক্ষোভ, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং ডেমোক্র্যাটদের সুশৃঙ্খল কৌশলসহ পাঁচটি প্রধান দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি:
দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মুদ্রাস্ফীতি ৩.৭ শতাংশ বেড়েছে। ভোটার জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এর জন্য সিংহভাগ ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন।

২. ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট:
ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত ভোটারদের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় ছিল। এই যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মার্কিন পেট্রোল পাম্পগুলোতে। ভোটারদের একটি বড় অংশ (৭৪ শতাংশ) এই সংঘাতকে ভোটের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পরিপন্থী হওয়ায় অনেক রিপাবলিকান ভোটারও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

৩. ডেমোক্র্যাটদের সুশৃঙ্খল নির্বাচনী বার্তা:
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মতো সুনির্দিষ্ট ইস্যুগুলোতে অটল ছিল। জেমস টালারিকো, অ্যাডাম হ্যামিল্টন ও অ্যানি অ্যান্ড্রুসের মতো শক্তিশালী প্রার্থীরা স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন। এছাড়া আব্দুল এল-সায়েদ ও জন অসফের মতো নেতারা দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে কার্যকর বার্তা দিয়ে জয়ী হয়েছেন। বিপরীতে, কিছু রিপাবলিকান প্রার্থীর দুর্বল প্রচারণার সমালোচনা করেছেন খোদ ট্রাম্প নিজেই।

৪. ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস:
জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত কমছে। মূল্যবৃদ্ধি ও যুদ্ধের মতো নেতিবাচক বিষয়গুলো সরাসরি তার প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় তিনি নিজেই দলের জন্য বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা এবং ভোটারদের উদ্বেগ থেকে দূরে সরে গিয়ে বিতর্কিত প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

৫. সংখ্যালঘু ভোটারদের মত পরিবর্তন:
পূর্ববর্তী নির্বাচনে হিস্জলক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন দিলেও এবার সেই ধারা উল্টে গেছে। টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্ত এলাকার হিস্জলক অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা বড় জয় পেয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিস্জলক-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ভোট প্রদানের হার ২২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছে, যা রিপাবলিকানদের পরাজয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *