‘ট্রমা’ কি সস্তা হয়ে গেল? ছোটখাটো মনখারাপকেও বড় বিপদ ডাকছেন না তো!

‘ট্রমা’ কি সস্তা হয়ে গেল? ছোটখাটো মনখারাপকেও বড় বিপদ ডাকছেন না তো!

 

‘ট্রমা’ শব্দের অপব্যবহার: প্রকৃত মানসিক রোগীদের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সময়ে সাহিত্য থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন কনটেন্টে ‘ট্রমা’ শব্দটির অতিব্যবহার ও যথেচ্ছ প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মনোবিজ্ঞানী ও গবেষকরা। তাঁদের মতে, শব্দটির ভুল ব্যবহারের ফলে এর প্রকৃত গাম্ভীর্য হারিয়ে যাচ্ছে এবং সত্যিকারের মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

মনোবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী, ট্রমা বলতে কোনো জীবনসংশয়পূর্ণ বা চরম ভীতিজনক অভিজ্ঞতাকে বোঝায়, যেমন—যুদ্ধ, বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তবে বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো মানসিক চাপ বা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাকেও ‘ট্রমা’ হিসেবে অভিহিত করার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রমা ও সাধারণ মানসিক চাপের এই পার্থক্যের অস্পষ্টতা প্রকৃত ট্রমা আক্রান্ত রোগীদের যন্ত্রণাকে সমাজ ও সাধারণ মানুষের চোখে লঘু করে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার নেতিবাচক প্রভাবগুলো হলো:

  • প্রকৃত সাহায্যপ্রার্থীদের উপেক্ষা: ছোটখাটো মন খারাপকেও ট্রমা হিসেবে প্রচার করায়, পিটিএসডি (PTSD)-তে আক্রান্ত বা গুরুতর ট্রমার শিকার ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক কষ্টের প্রতি সমাজের সহানুভূতি ও গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। ফলে সত্যিকারের রোগীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
  • সেলফ-ডায়াগনোসিসের ঝুঁকি: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রেন্ড অনুসরণ করে অনেকে নিজেকে ‘ট্রমাটাইজড’ হিসেবে ঘোষণা করছেন। এই ধরনের ‘সেলফ-ডায়াগনোসিস’ বা স্ব-নির্ণয় মানুষের মানসিক শক্তি বৃদ্ধির পরিবর্তে তাদের আরও বেশি হতাশাগ্রস্ত করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, শব্দের নিজস্ব শক্তি ও নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। প্রতিটি নেতিবাচক অনুভূতিকে ট্রমা না বলে বরং তার প্রকৃত নামে চিহ্নিত করা উচিত। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা কাম্য, তবে শব্দের অপব্যবহার করে তার গভীরতাকে অর্থহীন করে তোলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *