শিল্পপতিদের তোলাবাজির ভয় নেই! অভিযোগ পেলেই ১৫ মিনিটে গ্রেপ্তার, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শিল্পে তোলাবাজি বরদাস্ত নয়, অভিযোগ পেলেই ১৫ মিনিটে গ্রেপ্তার: কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার শিল্পমহলের সঙ্গে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শিল্পক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ১৫ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে।
রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প স্থাপন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহণ—প্রতিটি ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ডানকুনি ও দুর্গাপুরের টোল প্লাজাগুলিতে অবৈধভাবে টাকা আদায় বন্ধ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য সল্টলেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যেখান থেকে রাজ্যের বিভিন্ন টোল প্লাজার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। পণ্যবাহী গাড়ির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্নেও এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইডি বা সিবিআইয়ের মতো তদন্তকারী সংস্থার মামলা রয়েছে অথবা যারা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের টাকা আত্মসাৎ বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত, প্রশাসনিক স্তরে তাদের সঙ্গে কোনো কাজের সম্পর্ক রাখা হবে না। তবে ব্যক্তিগত সৌজন্যবোধ বজায় থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনো নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
নতুন শিল্পনীতি নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে রাজ্য সরকার একাধিক আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলে নিয়োগকর্তার ইপিএফের একটি অংশ ফেরত দেওয়া, নারী ও রূপান্তরকামী কর্মীদের নিয়োগে বিশেষ সুবিধা, পিছিয়ে পড়া এলাকায় শিল্প স্থাপনে বাড়তি আর্থিক সহায়তা এবং বড় প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজ।
সব মিলিয়ে, বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং অন্যদিকে তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্য সরকার।