ভোটার হওয়ার পথে বড় স্বস্তি, তুলে নেওয়া হলো ফর্ম ৬-এর সেই বিতর্কিত শর্ত!

ভোটার হওয়ার পথে বড় স্বস্তি, তুলে নেওয়া হলো ফর্ম ৬-এর সেই বিতর্কিত শর্ত!

 

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় বদল: এসআইআর-মুক্ত রাজ্যগুলোতে বাতিল বাড়তি ঘোষণাপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে এতদিন যে বাড়তি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হতো, তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। যে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ‘স্পেশাল ইমাজিনারি রোল’ (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেখান থেকেই মূলত এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে।

এতদিন নতুন ভোটারদের নিজেদের কিংবা তাঁদের পূর্বপুরুষদের বংশগত যোগসূত্র প্রমাণ করার জন্য অতিরিক্ত কিছু তথ্য দিতে হতো। এই নিয়ম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়কালের জন্যই ওই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি প্রযোজ্য ছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় এখন থেকে ১৯৬০ সালের ‘রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস’ অনুযায়ী শুধুমাত্র ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করলেই নাম নথিভুক্ত করা সম্ভব হবে।

তবে কমিশন জানিয়েছে, যে সমস্ত রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখনও এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে ‘ইসিআইনেট’ (ECINET) পোর্টালে এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা আপাতত বহাল থাকছে। অন্যদিকে, যেসব রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, সেখানে ইসিআইনেট অ্যাপ বা পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) পোর্টাল থেকে এই বাড়তি নিয়মটি পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী এই অতিরিক্ত শর্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে কমিশনের যেকোনো বৈঠকের আলোচ্যসূচি (অ্যাজেন্ডা) আগেভাগে সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে এবং বৈঠক শেষে নিয়মিতভাবে তার কার্যবিবরণী (মিনিটস) প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *