কলকাতার পুজোর অন্দরে স্বজনপোষণ! শুভ-র বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার ‘মাস আর্ট’-এর কর্ণধার শুভ
কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে ‘মাস আর্ট’ সংস্থার নেপথ্য কারিগর ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় টেরিটি বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার পরেই শহরের বিভিন্ন পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে শুভর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অভিযোগের পাহাড় জমতে শুরু করেছে।
অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’-এর মাধ্যমে কলকাতার নির্বাচিত ২০-২৫টি বড় পুজোকে নিয়ে ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে মোটা টাকার বিনিময়ে আগাম ঠাকুর দেখার পাস বিক্রি করা হতো। ২০২২ সালে তৎকালীন এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর মদতে এই চক্র গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। পুজো সংগঠকদের একাংশের দাবি, সরকারি প্রভাব খাটিয়ে বিজ্ঞাপনের টাকা আত্মসাৎ, পুজো কমিটিতে নিজের পছন্দের লোক বসানো এবং সরকারি তহবিল নয়ছয়ের মতো ঘটনায় জড়িয়ে ছিলেন শুভ।
ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের অন্যতম পুজোকর্তা নিতিন পটেল অভিযোগ করেন, “তৎকালীন সরকারের সরাসরি মদতে পুজোয় সিন্ডিকেট চালানো হতো। এর ফলে ভক্তি ও আরাধনার ঐতিহ্য কলুষিত হয়েছিল।” লহাবাগান সর্বজনীনের অভিজিৎ বসাক অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেককে পাড়ার পুজো কমিটি থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন শুভ।
২০১৬ সালে বেলগাছিয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে শুভর উত্থান শুরু। তাঁর পরামর্শেই পরবর্তীতে তা ‘টালা প্রত্যয়’ নামে পরিচিতি পায়। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির বিষয়টি নিয়েও তিনি রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের খবর, দুর্গোৎসবকে ইউনেস্কোর আবহমান সংস্কৃতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নেপথ্যে থাকা গবেষক তপতী গুহঠাকুরতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের প্রচেষ্টাকে আড়াল করে পুরো কৃতিত্ব তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নামে চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন শুভ।
‘মাস আর্ট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে আইনি লড়াই চালানো আইনজীবী অতনু ঘোষ জানান, গত চার-পাঁচ বছরে শহরের মাত্র ২৪-২৫টি পুজোকে কেন্দ্র করেই এই কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ ছিল, যার ফলে যোগ্য থাকা সত্ত্বেও বহু ঐতিহ্যবাহী পুজো বঞ্চিত হয়েছে।
এদিকে, রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর শুভর প্রতিপত্তিতে ভাটা পড়ে। টালা প্রত্যয় কমিটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসে। কমিটির সদস্য দেবাশিস সোম জানান, শুভর কাছে গচ্ছিত পুজো কমিটির টাকাও তিনি ফেরত দেননি। তবে তাঁর অপসারণের পর বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাধীনভাবে পুজো পরিচালনা করতে পারছেন।
শুভর বিরুদ্ধে ওঠা এই একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে পুলিশ। শহরের পুজোর সংস্কৃতিতে রাজনীতিকরণ ও দুর্নীতির এই যোগসূত্র উদঘাটনই এখন মূল লক্ষ্য প্রশাসনের।