আলুর বাজারে ধস! চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

আলুচাষিদের স্বস্তি দিতে রাজ্য সরকারের মেগা ঘোষণা: নিশ্চিত দাম ও ভর্তুকির আশ্বাস
নিজস্ব প্রতিবেদক: আলুচাষিদের সুরক্ষা ও আলুর বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। বিগত দিনে বর্ডারে আলুর গাড়ি আটকে রাখার ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা আর বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন জমানায় আলুর ব্যবসায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজ্য সরকারের এই নতুন নীতি অনুযায়ী আলুচাষিদের জন্য একাধিক সহায়তামূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে:
- ‘ফ্রি বন্ড’ মূল্য নিশ্চিতকরণ: আলুর বাজারদর যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, চাষিদের সুরক্ষায় কুইন্টাল প্রতি ১,১১০ টাকা ‘ফ্রি বন্ড’ মূল্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজারমূল্য এর চেয়ে কমে গেলে, পার্থক্যজনিত ক্ষতির টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরকারি ভর্তুকি হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
- পরিবহন ও রপ্তানি সহায়তা: ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। সীমান্তে আলু বোঝাই গাড়ি আটকানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, পরিবহনে উৎসাহ দিতে কুইন্টাল প্রতি ৫০ টাকা করে বিশেষ ভর্তুকি (ট্রান্সপোর্ট সাবসিডি) প্রদান করা হবে।
- ফসল বিমা ও হিমঘর ব্যবস্থাপনা: আলুকে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে কৃষকদের প্রদেয় বিমার সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম বহন করবে রাজ্য সরকার। এছাড়া, হিমঘরে মজুত থাকা ২৭ লক্ষ টন আলু ৩০ নভেম্বরের মধ্যে (প্রয়োজনে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- সোলার হিমঘর প্রকল্প: কৃষকদের সুবিধার জন্য রাজ্যের ৫০টি ‘কৃষক মান্ডি’-তে আধুনিক সৌরশক্তি চালিত হিমঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ কোল্ড স্টোরেজগুলোকেও সরকারি বিপণন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং মেদিনীপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের আলুচাষিদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি এই সহায়তামূলক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে চাষিরা যেমন ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন, তেমনই রাজ্যের আলুর বাজার ব্যবস্থা অনেক বেশি সুসংহত হবে।