চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এবার ‘রাজ্য মেলা’, কত কোটি বরাদ্দ করলেন মুখ্যমন্ত্রী?

জগদ্ধাত্রী পুজোয় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ, আরামবাগ নতুন জেলা ঘোষণার পথে: রাজ্য সরকারের বড় ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। জগদ্ধাত্রী পুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে আরও অর্থ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, আসন্ন ছটপুজো উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিশেষ পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুজো অনুদান ও মানবিক সহায়তা
গত বছরের তুলনায় দুর্গাপুজোর অনুদানে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এ বছর ৫৮ হাজার পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৩ হাজার বেশি। এছাড়া, চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের একজনের জন্য স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরামবাগ নতুন জেলা ও সামাজিক সুরক্ষা
হুগলির প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় রদবদল ঘটিয়ে আরামবাগকে পৃথক জেলা হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে তথ্য দিয়ে জানানো হয়েছে, হুগলি জেলায় বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষ ৪ হাজার নারী এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া, ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা’-য় জেলায় ৫৯ হাজার ৪৭৭ জনের ঘরের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, রাজ্যজুড়ে কাঁচা ঘর বা টিন-টালির কোনো অস্তিত্ব আর থাকবে না।
পরিযায়ী শ্রমিক ও কর্মসংস্থান
রাজ্যের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। ‘ভিবি জি রাম জি’ প্রকল্পে কাজের দিন বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। বর্তমানে ২২ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের অধীনে যুক্ত রয়েছেন এবং ৩১ মার্চের মধ্যে ২২ কোটি শ্রম দিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কার্যকালে স্থায়ী পুলিশ নিয়োগ থেকে শুরু করে সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, অঙ্গনওয়াড়ি, আশা কর্মী এবং প্যারা-টিচারদের ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তৃণমূল স্তর থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।