১৬ লক্ষ ভোটারের নাম গায়েব, মোদী-শাহের দুর্গ ভাঙতে রাস্তায় নামলেন জেন-জিরা!

দুর্নীতিগ্রস্তদের নিয়ে জোটে অনীহা, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের বিরুদ্ধে সরব বামেরা
কলকাতা: বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোট গঠনের ডাক দিলেও, সেই ঐক্যের প্রক্রিয়ায় দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনো স্থান নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। ধর্মতলায় আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আগে পাপস্খলন হোক, তারপর জোট।”
নিজের বক্তব্যে নাম না নিলেও সেলিমের নিশানায় যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট। তিনি বলেন, “বৃহত্তম জোট গড়তে হবে ঠিকই, কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের আগে পাপস্খলন করতে হবে। আমাদের মূল লড়াই ভোট চুরির বিরুদ্ধে।”
এদিনের সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশন এবং কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন বাম নেতারা। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসু দাবি করেন, চক্রান্ত করে ১৬ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনারের গ্রেফতারির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বামেরা।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সোচ্চার হন মহম্মদ সেলিম। বিজেপির মিছিলে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য কলকাতার রাস্তা বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলে তিনি কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে এফআইআর দায়ের করার চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি বলেন, পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে বাম ছাত্র-যুব সংগঠন নিজেরা এফআইআর করবে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘৩ কোটি অনুপ্রবেশকারী’ সংক্রান্ত দাবির প্রেক্ষিতে আরএসপি ও এসইউসিআই নেতারা প্রশ্ন তোলেন, সরকার এতদিন ধরে সেই চিহ্নিতকরণের কাজ কেন সম্পন্ন করেনি।
সমাবেশে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আগামী লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ তুলে ধরেন। তিনি এটিকে কেবল রাজনৈতিক দলের জোট না বলে ‘মানুষের জোট’ হিসেবে অভিহিত করেন। ‘ভোট চোর, গদ্দি ছোড়’ স্লোগানকে সামনে রেখে জেন-জি (Gen Z) ও জেন-আলফা (Gen Alpha) প্রজন্মকে বুথ স্তরে সংগঠনের কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মতলার সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বামেদের আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লেও, সেলিমের ‘পাপস্খলন’ সংক্রান্ত শর্তটি বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ সমীকরণে এক নতুন জল্পনার জন্ম দিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।