জমি জট কাটাতে ঐতিহাসিক ঘোষণা, জমিদাতাদের জন্য মিলবে বড় অংশীদারি ও চাকরির সুযোগ!

৫০ হাজার কোটির বকেয়া নিয়ে পূর্বতন সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা নতুন শিল্প ও জমি নীতির
নিজস্ব প্রতিবেদক: পূর্ববর্তী সরকারের নীতি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন এক সভামঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে রাজ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ইনসেনটিভ ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকার যদি প্রতি বছর নিয়মিত ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করত, তবে বর্তমান সরকারকে এমন আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হতো না। তবে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে গুজরাত বা মহারাষ্ট্রের মতো বকেয়া মেটানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
নতুন জমি নীতি ও ‘ল্যান্ড পুলিং’
রাজ্যে শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কৃষকদের ওপর জোর করে জমি নেওয়ার কোনো নীতি সরকার মেনে নেবে না। পরিবর্তে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত ও অন্ধ্রপ্রদেশের ধাঁচে ‘ল্যান্ড পুলিং’ ও ‘ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ মডেলে জোর দেওয়া হচ্ছে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, জমিদাতারা তাঁদের দেওয়া জমির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ফেরত পাবেন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সংস্থায় তাঁদের অংশীদারি নিশ্চিত করা হবে এবং অদক্ষ স্থানীয়দের কারখানার কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া, যেসব শিল্প সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে জমি ফেলে রেখেছে, তাদের কাজ শুরুর জন্য মাত্র ৩ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিগত আটটি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS) নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে অভিযোগ করেন যে, ৬৫০ কোটি টাকা খরচ হলেও কোনো প্রকৃত বিনিয়োগ আসেনি। তিনি সরকারি স্কুল ও হাসপাতালকেও বিনিয়োগ হিসেবে দেখানোর জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন।
কর্মসংস্থান ও ‘কর্মযোগী’ প্রকল্প
রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পানাগড়, হরিণঘাটা, শালবনী ও রঘুনাথপুরের প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অদক্ষ শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে পরিযায়ী হওয়ার প্রবণতা রুখতে রাজ্য সরকার নতুন ‘কর্মযোগী’ প্রকল্প চালু করছে। সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শিল্পমহলকে বার্তা দিয়ে বলেন, নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।