চিনের ঘুম কাড়তে ভারতের আকাশে উড়বে দেশীয় সি-২৯৫! জানুন কেন এই বিমান নিয়ে এত চর্চা?

ভারতের মাটিতে তৈরি প্রথম সি-২৯৫ সামরিক বিমান হস্তান্তর প্রক্রিয়ায়, নভেম্বরেই বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। ভাদোদরার কারখানায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম সি-২৯৫ সামরিক পরিবহন বিমানটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) বহরে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটি বায়ুসেনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সফল পরীক্ষা ও চুক্তির প্রেক্ষাপট
ভাদোদরার কারখানা থেকে গত ১০ জুন বিমানটি তার প্রথম সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। এরপর প্রযুক্তিগত সুরক্ষা, কর্মক্ষমতা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্যান্ডার্ড যাচাইয়ের জন্য বিমানটির ওপর কয়েক দফায় কঠোর ‘ফ্লাইট টেস্ট’ চালানো হয়েছে। যাবতীয় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি ভারতীয় বিমান বাহিনীকে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য মোট ৫৬টি সি-২৯৫ সামরিক পরিবহন বিমান কেনার চুক্তি করেছিল ভারত সরকার। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬টি বিমান স্পেনে প্রস্তুত হওয়ার কথা থাকলেও, বাকি ৪০টি বিমান ভারতেই তৈরি হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে এই প্রথম দেশীয় বিমানটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা একে ভারতের এভিয়েশন খাতের জন্য এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
সি-২৯৫ বিমানের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য
এটি সামগ্রিক অর্ডারের ১৭তম বিমান হলেও, সম্পূর্ণভাবে ভারতের মাটিতে তৈরি হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব অপরিসীম। সি-২৯৫ একটি আধুনিক এবং বহুমুখী ট্যাকটিক্যাল মিলিটারি ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা প্রতিকূল ভূখণ্ডে সৈন্য পরিবহন, অস্ত্রশস্ত্র ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিমান অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া জরুরি ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নত এভিওনিক্স এবং উচ্চ পেলোড ক্ষমতার অধিকারী এই বিমানটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর আকাশপথে শক্তি ও রণনৈপুণ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।