১ কোটি ২ লক্ষ টাকার উদ্ধার কি পুলিশের সাজানো নাটক? শমীকের তোপে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

১ কোটি ২ লক্ষ টাকার উদ্ধার কি পুলিশের সাজানো নাটক? শমীকের তোপে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

 

ডায়মন্ড হারবারে টাকা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি: অভিষেক ও শমীকের বাগযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিসে পুলিশের তল্লাশি ও টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। এই ঘটনাকে পরিকল্পিত চক্রান্ত বলে দাবি করে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, এই অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা তোপ দেগেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

কালীঘাটে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, সরিষায় তৃণমূলের পার্টি অফিস এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে নিয়ে যে ‘গল্প’ সাজানো হয়েছে, তা পুলিশের অপদার্থতারই প্রমাণ। অভিষেকের দাবি, গত ২১ মে ওই পার্টি অফিসের জায়গা মূল মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়ে ২২ মে ডায়মন্ড হারবার থানার ওসি-কে ইমেল ও চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেই তথ্যের তোয়াক্কা না করে ২২ মে মধ্যরাতে বিজেপির কর্মীরা সেখানে তাণ্ডব চালায়।

তৃণমূল সাংসদের আরও বিস্ফোরক দাবি, গত ৪ জুন গভীর রাতে ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি-র ব্যবহৃত একটি কালো রঙের এসইউভি গাড়িতে করে টাকার ব্যাগ নিয়ে গিয়ে ওই পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল। তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি করে অভিষেক বলেন, “ডায়মন্ড হারবারের এসপি-র নির্দেশে পুরো পরিকল্পনাটি করা হয়েছে। পুলিশ সাহস থাকলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক, আমি আদালতে সব প্রমাণ পেশ করব।” প্রয়োজনে তিনি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পাল্টা জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অভিষেকের এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, “পুরো ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল নেতাদেরই জেলে যাওয়া উচিত। ২০১৯ সালে গণনাকেন্দ্রে ঢুকে প্রার্থীকে মারধর ও খুন—এসবই তৃণমূলের দান।” শমীক ভট্টাচার্যের হুঁশিয়ারি, “কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করে আনা হবে।”

উল্লেখ্য, তৃণমূলের পার্টি অফিসে পুলিশি তল্লাশি ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে বিজেপির কঠোর অবস্থানের জেরে বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *