আপনার সঙ্গী কি একজন নার্সিসিস্ট? সাবধান হোন এখনই!

আপনার সঙ্গী কি একজন নার্সিসিস্ট? সাবধান হোন এখনই!

 

নার্সিসিস্ট স্বামীর আচরণ: লক্ষণ ও উত্তরণের উপায় জানালেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাম্পত্য জীবনে সঙ্গী যদি চরম আত্মকেন্দ্রিক, অহংকারী এবং নিজের স্বার্থসর্বস্ব হন, তবে তা স্ত্রীর জন্য মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনোবিদদের মতে, অনেক সময় নারীরা বুঝতে পারেন না যে তাঁদের স্বামী কেবল জেদি বা রাগী স্বভাবের নন, বরং তিনি একজন ‘ক্লিনিক্যাল নার্সিসিস্ট’। এই মানসিক বৈশিষ্ট্যগুলো সময়মতো শনাক্ত করা সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার জন্য জরুরি।

মনস্তত্ত্ববিদ ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন নার্সিসিস্ট স্বামীর আচরণে কিছু নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়:

১. সহানুভূতির অভাব: নার্সিসিস্ট ব্যক্তিরা সঙ্গীর সংকট বা মানসিক আঘাতের প্রতি উদাসীন থাকেন। বরং সঙ্গীর সমস্যার পরিবর্তে তারা নিজেদের সাফল্য বা কষ্ট নিয়ে আলোচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

২. দ্বিমুখী আচরণ: ঘরের বাইরে সমাজ বা বন্ধুদের কাছে তারা অত্যন্ত ভদ্র, মিশুক ও প্রশংসনীয় হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। অথচ চারদেওয়ালের ভেতর তাদের আসল ও ক্রুদ্ধ রূপটি প্রকাশিত হয়।

৩. ‘লাভ বোম্বিং’ ও নিয়ন্ত্রণ: সম্পর্কের শুরুতে তারা অতিরিক্ত মিষ্টি কথা বা আচরণের মাধ্যমে সঙ্গীকে মুগ্ধ করার চেষ্টা করেন, যাকে মনস্তাত্ত্বিক ভাষায় ‘লাভ বোম্বিং’ বলা হয়। সম্পর্ক পোক্ত হয়ে গেলে তারা সঙ্গীকে মানসিক দিক থেকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

৪. দোষারোপের প্রবণতা: নিজেদের কোনো ভুল স্বীকার না করা এবং যেকোনো পরিস্থিতির দোষ সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা সব সময় নিজেকে নিখুঁত বা ‘পারফেক্ট’ হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া থাকেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কোনো স্বামীর আচরণে এই ধরনের লক্ষণগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায়, তবে তা এড়িয়ে না গিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। দাম্পত্য সম্পর্কে এ ধরনের মানসিক টানাপোড়েন থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত পেশাদার কাপল থেরাপিস্ট বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বড় ধরনের মানসিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *