সারাদিন ক্লান্তি আর বদহজম? শরীরে ফাইবারের চরম অভাব নেই তো!

শরীরে ফাইবারের ঘাটতি: লক্ষণ ও সতর্কবার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সুস্থ থাকার জন্য শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত জরুরি, যার মধ্যে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার অন্যতম। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ফাইবারের ঘাটতি হলে হজমের সমস্যা, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে এই সতর্কসংকেতগুলো চিহ্নিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ফাইবারের অভাব বোঝার প্রধান লক্ষণ হলো দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা। ফাইবার অন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত পেট পরিষ্কার না হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা মূলত খাদ্যতালিকায় ফাইবারের ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ। পর্যাপ্ত ফাইবার না পেলে বিপাক হার (মেটাবলিজম) কমে যায়, যার ফলে শরীরে মেদ জমার প্রবণতা দেখা দেয়।
ফাইবারের অপর্যাপ্ততা রক্তে শর্করার মাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফাইবার রক্তে গ্লুকোজ শোষণের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং এনার্জি স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু খাদ্যে ফাইবারের অভাব থাকলে খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষুধা বোধ করা বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।
এছাড়া শরীরে ফাইবারের ঘাটতি কোলেস্টেরলের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ওটস, সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং আস্ত শস্যদানা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। নিয়মিত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই শারীরিক বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখা এবং বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।