প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বাড়িতে হানা পুলিশের, পুজোর পাস দুর্নীতিতে নতুন মোড়!

ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে কোটি টাকার দুর্নীতি: মাস আর্ট কাণ্ডে নতুন মোড়, ধৃত সচিব
কলকাতা: দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বিশাল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল রাজ্য। এই মামলায় সাম্প্রতিকতম সংযোজন মাস আর্ট সোসাইটির সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ-এর গ্রেফতারি। গত বুধবার সন্ধ্যায় টেরিটি বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতির অন্যতম মূলচক্রী ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পরেই ‘মাস আর্ট সোসাইটি’ গঠিত হয়। এই সংস্থার আড়ালে পুজোর ভিআইপি পাস ও প্রিভিউ শো-এর টিকিট বিক্রির নামে বিশাল অঙ্কের টাকা তোলার ছক কষা হয়েছিল। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে এই পাস বিক্রি করা হয়। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের টেন্ডারেও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা হিসেবে ধ্রুবজ্যোতির সংস্থাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই পুরো চক্রের নেপথ্যে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। দুর্নীতিতে মোট ১১৫ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ হয়েছে বলে ধারণা তদন্তকারীদের। এর মধ্যে কেবল পুজোর পাস বিক্রি করেই প্রায় ৩০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল।
এই মামলায় লালবাজারের নজর রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রীর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের ওপর। সূত্রের খবর, ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে পরিচালিত ‘আই এসকেপ’ এবং ‘মাইরা’ নামে দুটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতির টাকা পাচার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, বিভিন্ন অনৈতিক উৎস থেকে আসা বিপুল অর্থ ইন্দ্রনীল সেন তাঁর মেয়ের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছিলেন।
এদিকে, মাস আর্ট সোসাইটির দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও এফআইআরে রয়েছে। যদিও হাইকোর্ট থেকে তিনি রক্ষাকবচ পেয়েছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। মধুছন্দার দাবি, তিনি বারণ করা সত্ত্বেও ইন্দ্রনীল সেন তাঁর কথা শোনেননি। অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, তাঁর স্ত্রী পুরো বিষয়টি সম্পর্কেই অবগত ছিলেন।
এই দুর্নীতি মামলায় তদন্ত জোরদার করেছে লালবাজার। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ, যার অংশ হিসেবে অভিযানে পুলিশের সঙ্গে কুকুরও মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ইন্দ্রনীলের কন্যাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।