নিঝুম রাতে চেনা গলার ডাকে সাড়া দিলেই সর্বনাশ, বাংলার এই ১০ রহস্যময় ভূতের কাণ্ড জানলে শিউরে উঠবেন!

নিঝুম রাতে চেনা গলার ডাকে সাড়া দিলেই সর্বনাশ, বাংলার এই ১০ রহস্যময় ভূতের কাণ্ড জানলে শিউরে উঠবেন!

 

ভূত চতুর্দশী ও বাংলার লোকগাথা: লোকমুখে প্রচলিত ১০ ভয়ংকর ও রহস্যময় ভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রামবাংলায় ভূত চতুর্দশীর রাত মানেই অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে গৃহের মঙ্গল কামনার দিন। পূর্বপুরুষদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই তিথিকে ঘিরে লোকসংস্কৃতির ভাঁড়ারে রয়েছে অগণিত ভূত ও অলৌকিক সত্তার রোমাঞ্চকর গল্প। যুগ যুগ ধরে এই জনশ্রুতির ওপর ভর করেই গড়ে উঠেছে বাংলার ভৌতিক লোকগাথা। ভূত চতুর্দশীর এই রাতে স্মরণে আনা যাক বাংলার লোককথায় বিখ্যাত এমন ১০টি অশরীরী চরিত্র:

১. ব্রহ্মদৈত্য: লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ব্রাহ্মণ বর্ণের কোনো ব্যক্তির অপমৃত্যু হলে তিনি ব্রহ্মদৈত্যে পরিণত হন। ধুতি ও পৈতেধারী এই ভূতেরা সাধারণত বেল বা বটগাছে বাস করে। এদের স্বভাব সাধারণত শান্ত ও পরোপকারী।

২. পেত্নী ও শাঁখচুন্নি: অবিবাহিত অবস্থায় অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে মারা যাওয়া নারীরা পেত্নী এবং বিবাহিত হিন্দু নারীর অপমৃত্যু হলে তারা শাঁখচুন্নি হন। শাঁখচুন্নিরা লাল শাড়ি ও শাঁখা পরিহিত অবস্থায় সুখী সংসারে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে বলে লোককথা।

৩. মেছো ভূত: জলাশয় বা পুকুরপাড়ে যাদের আস্তানা, সেই মেছো ভূত মাছের গন্ধে পাগল থাকে। মাছ শিকারি পথচারীদের ভয় দেখিয়ে বা ছদ্মবেশ ধরে মাছ ছিনিয়ে নেওয়াই এদের প্রধান কাজ।

৪. গেছো ভূত: তেঁতুল বা শেওড়া গাছে বসবাসকারী এই ভূতরা পথচারীদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ে বা গাছের ডাল নাড়িয়ে ভয় দেখাতে পছন্দ করে।

৫. মামদো ভূত: জনশ্রুতি অনুযায়ী, মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তির অপমৃত্যু হলে মামদো ভূতের সৃষ্টি হয়। নির্জন কবরস্থানে এদের উপদ্রব বেশি এবং এরা মূলত মানুষকে আতঙ্কিত করতে ওস্তাদ।

৬. নিশি: গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতির সবচেয়ে বিপজ্জনক অপচ্ছায়া। গভীর রাতে এরা প্রিয়জনের কণ্ঠ নকল করে নাম ধরে ডাকে। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ডাকে সাড়া দিয়ে বাইরে বের হওয়া মানেই নিশ্চিত বিপদ।

৭. বেঘো ভূত ও কানাবুলা: বাঘের আক্রমণে মৃত ব্যক্তিরাই বেঘো ভূত হয়ে পথচারীদের বনের গহীনে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, কানাবুলা পথচারীদের চেনা রাস্তা গুলিয়ে দিয়ে একই পথে বারবার ঘোরাতে থাকে।

৮. আলেয়া: জলাভূমিতে দেখা দেওয়া রহস্যময় আলো। বিজ্ঞানের ভাষায় পচনশীল গ্যাস থেকে সৃষ্টি হলেও লোকগাথায় এটি এক মায়াবী হাতছানি, যা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে বিপদে ফেলে।

৯. স্কন্ধকাটা: রেল দুর্ঘটনায় মাথা হারানো মানুষের রূপ এই ভূত। এরা তাদের হারানো মাথা খুঁজে বেড়ায় এবং নির্জন পথে পথচারীদের ওপর চড়াও হয়।

১০. ডাইনি ও চুড়েল: তুকতাক বা তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত নারীদের ডাইনি এবং সন্তান প্রসবের সময় মৃত নারীদের চুড়েল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যাদের রূপ ও স্বভাব অত্যন্ত ভয়াবহ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি কেবলমাত্র লোকসংস্কৃতি ও প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং অন্ধবিশ্বাস প্রচার করা এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *