ভোটার তালিকা নিয়ে বড় ঘোষণা, বাদ পড়া ভোটারদের জন্য সুখবর!

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিশেষ সুযোগ দিল নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব প্রতিবেদন: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং এএসডিডি (ASDD) তালিকায় থাকা ভোটারদের জন্য আরও একটি বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কমিশনের সচিব পবন দেওয়ানের জারি করা এক নির্দেশিকায় এই প্রক্রিয়ার রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়েছে। যেসব রাজ্যে বর্তমানে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলছে, মূলত সেই রাজ্যগুলোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়েনি এবং যাঁরা এএসডিডি তালিকায় থাকার কারণে খসড়া তালিকায় স্থান পাননি, তাঁদের বুথভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট পোলিং স্টেশন, পঞ্চায়েত ভবন, স্থানীয় পুরসভা এবং বিডিও অফিসে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) ওয়েবসাইটেও এই তালিকা পিডিএফ ফরম্যাটে আপলোড করা হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও বিশেষ ছাড়:
- ফর্ম জমা: সংশ্লিষ্ট ভোটাররা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO)-র কাছে ‘অ্যাননেক্সার-এ’ (Annexure-A) ফর্ম জমা দিতে পারবেন। এছাড়া অনলাইনের ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট বা ‘ইসিআইনেট’ (ECINET) অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে।
- ঠিকানা পরিবর্তন: রাজ্যের ভেতরে ঠিকানা পরিবর্তন করা ভোটারদের নতুন করে ফর্ম-৮ জমা দিতে হবে না। ‘অ্যাননেক্সার-সি’ (Annexure-C) এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র দিলেই তা গৃহীত হবে। গৃহহীনদের ক্ষেত্রে বিএলও-র ফিল্ড ভেরিফিকেশন রিপোর্টই বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
- বিএলও-র ভূমিকা: বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ফর্ম জমা দেওয়ার কাজে সহায়তা করবেন।
- পুরোনো এপিক: আবেদন যাচাইয়ের পর নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে ভোটারদের পুরোনো ইউনিক এপিক (EPIC) নম্বরই বহাল রাখা হবে।
জাতীয় রাজধানী অঞ্চল, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, নাগাল্যান্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড ও তেলঙ্গানায় এই নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, কোনো বৈধ ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫৮.২১ লক্ষ ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়েনি, যাদের মধ্যে মৃত, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটাররাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রক্রিয়ার দাবি উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।