নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ভারতের অংশ করার সময় এসেছে! বিস্ফোরক নিশিকান্ত দুবে

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ভারতের অংশ করার সময় এসেছে! বিস্ফোরক নিশিকান্ত দুবে

 

শিরোনাম: পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে: দাবি বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলোর কড়া সমালোচনা করে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে দাবি করেছেন যে, এখন সময় এসেছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত থাকা ভারতের হারানো অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের। এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুবে নোয়াখালি, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে ভারতের অংশ হিসেবে দাবি করেছেন।

নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, ত্রিপুরার তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম সিংয়ের অমতে নেহরু তাঁর রাজ্যের অংশবিশেষ পাকিস্তান বা অন্য কোনো শক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে দরাদরি করেছিলেন। দুবের কথায়, “নোয়াখালি, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দর—এই তিনটি এলাকাই টিপরা রাজ্যের অংশ ছিল। রাজা বীর বিক্রম সিং নেহরুর এমন সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন।” তিনি আরও বলেন, ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে মহারানি কাঞ্চন প্রভা ভারতভুক্তির দলিলে সই করার আগে ত্রিপুরায় এক বছর ধরে যে অস্থিরতা চলেছিল, তার সুযোগ নিয়েই কৌশলগতভাবে ওই এলাকাগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিজেপি সাংসদ বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নেহরু অত্যন্ত মরিয়া ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ১৯৪৬ সালে নোয়াখালিতে ব্যাপক গণহত্যা চলাকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার বদলে মুসলিম লিগকে সরকারে শামিল করার বিষয়টিতেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

উত্তর-পূর্ব ভারতের অনুন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়াকে দায়ী করে দুবে বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর চলে যাওয়ার কারণেই গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল। ওই বন্দরটি আমাদের অধীনে থাকলে আজ উত্তর-পূর্ব ভারত বিচ্ছিন্ন থাকত না। তাই ইতিহাস সংশোধন করার এখনই সময়।”

সিলেট গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে দুবে অভিযোগ করেন, কংগ্রেস দল তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য ও পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি করে পুরস্কৃত করেছিল। দুবের দাবি, বাহারুল ইসলাম মুসলিম লিগের রেড আর্মির সদস্য ছিলেন, যারা নোয়াখালি গণহত্যা ও সিলেটে গণভোটের নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।

উল্লেখ্য, এই দাবির পাশাপাশি ত্রিপুরার রাজপরিবারের বর্তমান প্রধান প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মাও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন যে, দেশভাগের সময় ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ অংশ তৎকালীন ভারত সরকারের ‘কৌশলগত ভুল’-এর কারণে পূর্ব পাকিস্তানকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ভুলের কারণেই আজ উত্তর-পূর্ব ভারতকে ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *