বেঙ্গালুরুতে নৃশংস ম্যাসাকার, সাতজনকে খুন করে দেহ লোপাটের ছক!

একই পরিবারের সাত সদস্যকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ক্যাব চালক
বেঙ্গালুরু: কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকসহ পরিবারের সাত সদস্যকে খুনের অভিযোগে ৫২ বছর বয়সি এস ইন্দুশেখর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পেশায় ক্যাব চালক ইন্দুশেখর স্থানীয় একটি নিউজ চ্যানেল ও ট্যাবলয়েডও পরিচালনা করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর শ্রীরামপুরা থানায় নলিনী নামে এক তরুণীর নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর মা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ ইন্দুশেখরের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে অপরাধের কথা স্বীকার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের রাজাজিনগরের কাছে নিজের ভাড়া বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে ইন্দুশেখর। এরপর শিলনোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাদের হত্যা করে সে। খুনের তালিকায় রয়েছে তার স্ত্রী সুনীতা, শাশুড়ি রূপাবতী, দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্কর, দুই শ্যালকের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী এবং শিবকুমারের ৭ বছরের শিশুপুত্র পুনীত।
পুলিশের দাবি, স্ত্রীর বাপের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও পারিবারিক হস্তক্ষেপ ইন্দুশেখর মেনে নিতে পারছিল না। দাম্পত্য বিবাদ ও পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেয় সে। নৃশংসভাবে হত্যার পর মৃতদেহগুলো কাপড় বা বস্তায় মুড়ে নিজের গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে আসত অভিযুক্ত। প্রতিবেশীদের সে মিথ্যা বলে আসত যে, তারা সবাই ঘুরতে গিয়েছে।
ইতিমধ্যে চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী হিলসের কাছ থেকে শিবকুমারের ছেলে পুনীতের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের দেহ উদ্ধারে তল্লাশি চলছে। এছাড়া, এই ঘটনায় অভিযুক্তের ১৭ বছরের মেয়ের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে জানিয়েছেন, অপরাধীর মানসিক বিকৃতি স্পষ্ট। ঘটনার তদন্তে তিনজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের নেতৃত্বে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করা হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও শিলনোড়াটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।