বালিশের পাশে মোবাইল রেখে ঘুমানোর ভয়াবহ বিপদ জানেন কি!

বালিশের পাশে মোবাইল রেখে ঘুমানোর ভয়াবহ বিপদ জানেন কি!

 

ঘুমানোর সময় বালিশের পাশে স্মার্টফোন রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর সময় বালিশের পাশে স্মার্টফোন রাখার অভ্যাস শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই অভ্যাস থেকে সৃষ্ট ঝুঁকির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর সময় বালিশের পাশে স্মার্টফোন থাকলে তা থেকে নির্গত তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ বা রেডিয়েশন সরাসরি মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় এই রেডিয়েশনের সংস্পর্শে থাকলে তীব্র মাইগ্রেন, ক্রনিক মাথাব্যথা, স্নায়বিক দুর্বলতা এবং মানসিক অবসাদের মতো জটিল সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পাশাপাশি স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নিঃসৃত নীল আলো (ব্লু-লাইট) মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোন গভীর ঘুমের জন্য অপরিহার্য। ফলে বালিশের কাছে ফোন থাকলে ঘুমের চক্র ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়া বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিছানায় বা বালিশের নিচে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমানোর প্রবণতা থেকে আগুনের সূত্রপাতের শঙ্কা থাকে। ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি বা অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ফোন গরম হয়ে বিস্ফোরিত হওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। বিছানার কাপড় বা তুলোর সংস্পর্শে থাকা উত্তপ্ত ফোন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে।

এই ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
১. ঘুমানোর সময় স্মার্টফোন বিছানা থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে কোনো টেবিল বা নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।
২. রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে স্মার্টফোনসহ সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তনের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *