চিরতরে স্তব্ধ কণ্ঠস্বর, প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত

শুক্রবার দুপুরে কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। গত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং অটোইমিউন ডিজিজে ভুগছিলেন। এই গুণী শিল্পীর জীবনাবসানে টলিউড তথা বাংলার সাংস্কৃতিক মহলে শোকের গভীর ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী।
সাফল্যমণ্ডিত শিল্পীজীবন ও কাজের পরিধি
ইংরেজি সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র বিপ্লব দাশগুপ্ত শিক্ষকতা দিয়ে পেশাদার জীবন শুরু করলেও শিল্পের অমোঘ টানেই পা রেখেছিলেন অভিনয় ও আবৃত্তির দুনিয়ায়। ২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ় অফ টাইম’ ছবির মাধ্যমে তাঁর সেলুলয়েড সফর শুরু হয়। এরপর ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘৮৯’, ‘ফেলুদা’ এবং ‘গুমনামি’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে চারিত্রিক অভিনয়ে তিনি নিজের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেছেন। উল্লেখ্য, ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে তাঁর স্ক্রিন শেয়ার করা ছিল অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
কণ্ঠের জাদু ও সাংস্কৃতিক অবদান
শুধুমাত্র পর্দায় নয়, বিপ্লব দাশগুপ্ত তাঁর দরাজ কণ্ঠের জাদুতে জয় করেছিলেন বিজ্ঞাপন ও ভয়েস-ওভারের দুনিয়াও। আবৃত্তি এবং ধ্রুপদী সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কারণে এই অঙ্গনেও তিনি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। মহানায়ক উত্তম কুমার এবং তরুণ কুমারের সঙ্গে তাঁর নিবিড় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। শুক্রবার বিকেলে তাঁর মরদেহ টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সহকর্মী ও অনুরাগীরা এই গুণী শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এক ঝলকে
- ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন প্রবীণ অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত।
- দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তিনি অটোইমিউন ডিজিজসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
- ইংরেজি সাহিত্যের এই ছাত্র শিক্ষকতা ছেড়ে অভিনয়ে আসেন এবং ‘গুমনামি’ ও ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর মতো অসংখ্য হিট ছবিতে অভিনয় করেন।
- বাচিকশিল্পী ও বিজ্ঞাপন জগতের জনপ্রিয় এই ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে টলিউড এক বহুমুখী প্রতিভাকে হারাল।