৩৬ বছর ধরে রহস্যের আড়ালে রেখার সিঁদুর! ফ্যাশন নাকি গভীর কোনো অনুভূতির টান

৩৬ বছর ধরে রহস্যের আড়ালে রেখার সিঁদুর! ফ্যাশন নাকি গভীর কোনো অনুভূতির টান

বলিউডের চিরসবুজ অভিনেত্রী রেখা। পর্দায় তাঁর অভিনয় যেমন দর্শকদের মোহিত করে, তেমনই তাঁর বাস্তব জীবনও সাধারণ মানুষের কাছে এক বিশাল কৌতূহল। বিশেষ করে স্বামী মুকেশ আগরওয়ালের মৃত্যুর প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও রেখার সিঁথিতে উজ্জ্বল সিঁদুর আজও বিনোদন জগতের অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে। বিয়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই প্রথাগত চিহ্নটি তিনি কেন আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই।

সিঁদুরের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ

হিন্দু শাস্ত্র মতে বিবাহিত নারীর প্রতীক সিঁদুর হলেও রেখার ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। ১৯৯০ সালে দিল্লির শিল্পপতি মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তবে সেই দাম্পত্য স্থায়ী হয়েছিল মাত্র সাত মাস। মুকেশের আত্মহত্যার সময় রেখা দেশে ছিলেন না। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘ ৩৬ বছর কেটে গেলেও তিনি সিঁদুর ত্যাগ করেননি। ১৯৮২ সালে জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে রেখা একে স্রেফ ‘ফ্যাশন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সিঁদুর পরলে তাঁকে দেখতে ভালো লাগে এবং মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বিশেষ মাথা ঘামান না।

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও প্রভাব

রেখার এই ব্যতিক্রমী জীবনধারা প্রায়ই অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জনকে উসকে দেয়। সম্প্রতি চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ হানিফ জাভেরি দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যে আজও এক গভীর মানসিক টান বজায় রয়েছে। এই ব্যক্তিগত রহস্য রেখার ইমেজকে রহস্যময়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সমাজ ও প্রথাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের ইচ্ছামতো জীবন কাটানোর এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে তাঁকে এক লড়াকু এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবেও দর্শকদের কাছে তুলে ধরেছে। রেখার এই দীর্ঘস্থায়ী ‘সিঁদুর রহস্য’ আজও বলিউডের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *