মেয়ের হাত ধরে ছোটবেলায় ফেরা, ‘দ্য লায়ন কিং’ দেখে কাঁদলেন নিক জোনাস!

মেয়ের হাত ধরে ছোটবেলায় ফেরা, ‘দ্য লায়ন কিং’ দেখে কাঁদলেন নিক জোনাস!

পর্দায় সিংহশিশু সিম্বার বাবার হাত ছেড়ে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বিশ্বখ্যাত গায়ক ও অভিনেতা নিক জোনাস। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বাবা হওয়ার পর থেকে আবেগঘন যেকোনো সিনেমাই তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে। বিশেষ করে চার বছরের মেয়ে মালতী মেরির সঙ্গে বসে যখন তিনি নিজের ছোটবেলার প্রিয় সিনেমাগুলো নতুন করে দেখছেন, তখন আর আবেগ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

নিউ ইয়র্ক সিটির এক বিশেষ প্যানেল আলোচনায় নিজের আগামী সিনেমা ‘পাওয়ার ব্যালড’ নিয়ে কথা বলার সময় নিক তাঁর এই মানসিক পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, বাবা হওয়ার পর থেকে পারিবারিক সম্পর্কের গল্পগুলো তাঁর কাছে অনেক বেশি ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিমানের সাধারণ কোনো দৃশ্য দেখার সময়ও তাঁর চোখ ভিজে উঠছে। ২০২২ সালে সারোগেসির মাধ্যমে নিক জোনাস ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া দম্পতির জীবনে আসে মালতী মেরি, আর তারপর থেকেই এই পপ তারকার জীবনযাপনের চেনা সমীকরণগুলো অনেকটাই বদলে গেছে।

অভিভাবকত্বের নতুন সমীকরণ ও জীবনযাত্রায় প্রভাব

তারকা দম্পতিদের ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও নিক জোনাস একজন দায়িত্বশীল বাবার ভূমিকা পালন করছেন, যা তাঁদের পারিবারিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও একাধিকবার নিকের এই ‘হ্যান্ডস-অন’ বা সার্বক্ষণিক দায়িত্বশীল বাবা ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মেয়ের স্কুলের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন যত্ন নেওয়ার কাজটি নিক অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে করেন। আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের কাজের বিপুল চাপ সামলেও এই দম্পতি যেভাবে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন, তা আধুনিক পারিবারিক মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ।

প্রচারালোর মাঝেও স্বাভাবিক শৈশবের প্রয়াস

পেশাগত কারণে নিক-প্রিয়াঙ্কা দুজনেই সবসময় ক্যামেরার সামনে থাকলেও, মেয়ে মালতীর ক্ষেত্রে তাঁরা একটি স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করতে চান। প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা মেয়ের গোপনীয়তা রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। তারকা মা-বাবার সন্তান হিসেবে মালতী যেন খ্যাতির আলো চিনেও সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে, সেই চেষ্টাই করছেন এই দম্পতি। আন্তর্জাতিক তারকাদের এই সচেতনতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিশ্বজোড়া খ্যাতির চেয়েও সন্তানের সুন্দর ও সুস্থ মানসিক বিকাশই একজন মা-বাবার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *