‘ফোনেই মিটিয়ে নেওয়া যেত’, বাস্তব জীবনের ‘অভিমান’ নিয়ে অকপট শুভশ্রী

অভিমানী শুভশ্রীর নতুন সমীকরণ: ফোনে মিটিয়ে নেওয়াতেই বিশ্বাসী অভিনেত্রী
মধ্য কলকাতার এক নামী হোটেলে আয়োজিত ‘অভিমান’ ছবির প্রচারে এসে নিজের কাজের জগৎ ও সম্পর্কের দর্শন নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় মেতে উঠলেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও পরিবার ও কাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারদর্শী এই অভিনেত্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
বুম্বাদার পাশে কাজের অভিজ্ঞতা
প্রথমবারের মতো প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে উচ্ছ্বসিত শুভশ্রী। তাঁর মতে, বুম্বাদা কেবল একজন অভিনেতা নন, বরং একজন শিক্ষক ও আদর্শ। সাড়ে চারশো ছবি করার পরেও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাজের প্রতি যে ডেডিকেশন ও খিদে, তা তাঁকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। কাজের ক্ষেত্রে শুভশ্রী নিজেকে একজন ‘ডিরেক্টরস আর্টিস্ট’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। পরিচালকের সব নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পছন্দ করেন বলেই তিনি পরিচালকদের পছন্দের তালিকায় থাকেন। পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা বাবা-মেয়ের মতোই, যেখানে শাসন নয়, বরং স্নেহের মাধ্যমেই কাজ সম্পন্ন হয়।
সম্পর্কের জটিলতায় বিরহের যন্ত্রণা
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সম্পর্কের গল্পের ছবিতে অভিনয় করলেও শুভশ্রীর কাছে সম্পর্কের রসায়ন সবসময়ই আকর্ষণীয়। তাঁর কথায়, মানুষ ভালোবাসতে, প্রেমে পড়তে এবং অভিমান করতে ভালোবাসে। বিরহের যন্ত্রণা সিনেমার পর্দায় ফুটে উঠলে দর্শক নিজের জীবনের সঙ্গে তা মেলাতে পারেন। অনেক সময় সিনেমার দৃশ্য দেখে দর্শকের মনে হয়, অভিমান না করে ফোনে কথা বলে তা মিটিয়ে নেওয়া যেত। শুভশ্রী বিশ্বাস করেন, বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখে, যা সিনেমার মাধ্যমে নতুন করে উপলব্ধি করা সম্ভব।
নিজে খুব সহজ মানুষ হিসেবে পরিচিত শুভশ্রী অভিমান পুষিয়ে রাখা পছন্দ করেন না। জীবনের স্বল্প পরিসরে অভিমানকে জটিল না করে সরাসরি কথা বলে তা মিটিয়ে নেওয়াতেই তিনি অভ্যস্ত। ভালোবাসার প্রতি নিজের স্বচ্ছ ও স্ট্রং অবস্থানের কথাই ব্যক্ত করলেন এই অভিনেত্রী।