সোনার লঙ্কা থেকে রামের বনবাস, নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ কি মন জয় করতে পারল?

সোনার লঙ্কা থেকে রামের বনবাস, নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ কি মন জয় করতে পারল?

 

রণবীর-যশ-সাই পল্লবীর ‘রামায়ণ পার্ট ১’: পৌরাণিক মহাকাব্যের এক নতুন ও আবেগঘন দৃশ্যভাষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাল্মীকি রামায়ণের চিরাচরিত আখ্যানকে নতুন প্রজন্মের উপযোগী করে বড় পর্দায় নিয়ে এলেন পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি। রণবীর কাপুর, যশ এবং সাই পল্লবী অভিনীত ‘রামায়ণ পার্ট ১’ ছবির মূল লক্ষ্য ছিল রাম-রাবণের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ছবিতে কেবল পৌরাণিক আড়ম্বরই নয়, বরং চরিত্রগুলোর মানবিক আবেগ ও টানাপড়েনকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন নির্মাতা।

গল্পের মূল ভিত্তি
ছবিটির প্রথম ভাগ মূলত দুই প্রধান চরিত্রের সমান্তরাল উত্থানের গল্প। একদিকে লঙ্কায় রাবণের (যশ) উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতার দাপট এবং ত্রিভুবন জয়ের নেশা, অন্যদিকে অযোধ্যায় শ্রীরামের (রণবীর কাপুর) জন্ম, শিক্ষা ও বনবাসের প্রেক্ষাপট। চিত্রনাট্যে রামের বাল্যকাল থেকে শুরু করে সীতার (সাই পল্লবী) সঙ্গে বিবাহ এবং বনবাসে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রতিটি পর্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের শেষভাগটি সীতাহরণের ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে, যা পরবর্তী পর্বের যুদ্ধের পূর্বাভাস দেয়। নীতেশ তিওয়ারি পৌরাণিক ঘটনার মূল সুর অক্ষুণ্ণ রেখে মানবিক সম্পর্কের গভীরতাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

প্রযুক্তি ও শৈল্পিক আয়োজন
ছবিটির অন্যতম সম্পদ এর দৃশ্যবৈভব। ডিএনইজির ভিজ্যুয়াল এফেক্টস অযোধ্যা ও লঙ্কার আলাদা আবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষত, লঙ্কার রাজকীয় স্থাপত্য এবং পৌরাণিক সংঘাতের দৃশ্যগুলো বড় পর্দায় বেশ কার্যকর। পঙ্কজ কুমার ও মহেশ লিমায়ের চিত্রগ্রহণ ছবির নান্দনিকতাকে সমৃদ্ধ করেছে। সংগীতের দায়িত্বে থাকা এ আর রহমান এবং হান্স জিমারের সুর ছবির আধ্যাত্মিকতা ও আবেগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে তিন ঘণ্টার বেশি দৈর্ঘ্যের ছবিতে কিছু অংশ বেশ দীর্ঘ মনে হয়েছে, যা সম্পাদনার মাধ্যমে আরও সংক্ষিপ্ত করা যেত।

অভিনয় ও চরিত্রায়ন
রামের চরিত্রে রণবীরের সংযত অভিনয় প্রশংসনীয়। তিনি চরিত্রের গাম্ভীর্য ও মানবিক আবেগের ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। রাবণের চরিত্রে যশ পর্দায় নিজস্ব দাপট বজায় রেখেছেন; নিষ্ঠুরতার পাশাপাশি তাঁর চরিত্রের বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাও স্পষ্ট। সাই পল্লবী সীতার চরিত্রে স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী। এ ছাড়া লক্ষ্মণ চরিত্রে রবি দুবে, কৈকেয়ী চরিত্রে লারা দত্ত এবং দশরথের ভূমিকায় অরুণ গোভিলের উপস্থিতি ছবিটিকে পূর্ণতা দিয়েছে।

উপসংহার
‘রামায়ণ পার্ট ১’ কোনো সাধারণ পৌরাণিক সিনেমা নয়, বরং পরিচিত গল্পকে নতুন দৃশ্যভাষায় দেখার সুযোগ। সৃজনশীল স্বাধীনতার নামে মূল কাহিনি থেকে বিচ্যুত না হয়ে পরিচালক যেভাবে প্রতিটি চরিত্রকে গড়ে তুলেছেন, তা দর্শককে গল্পের সাথে ধরে রাখে। প্রযুক্তিগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অভিনয় ও আবেগের জোরে ছবিটি বড় পর্দায় দেখার মতো একটি অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। ভারতীয় মহাকাব্যের ভক্তদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *