খেলা ঘোরানোর ইঙ্গিত? মমতার দরকারে কি হাত বাড়াবে কংগ্রেস? অধীর চৌধুরীর বিস্ফোরক জবাবে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দামামা বেজে উঠতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের মধ্যকার সম্পর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্প্রতি বহরমপুরের প্রার্থী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তৃণমূলকে সমর্থনের প্রশ্নে অধীরের কৌশলী অবস্থান
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে যদি তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ম্যাজিক ফিগার ১৪৮-এর নিচে থাকে, তবে কংগ্রেস কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে অধীর চৌধুরী সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি বিষয়টিকে একটি ‘কাল্পনিক পরিস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে তিনি আসলে দলের দর কষাকষির পথ খোলা রাখলেন। বর্তমানে তিনি নিজে নির্বাচনী ময়দানে অত্যন্ত সক্রিয় এবং প্রতিদিন জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনের সময়সূচি ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ২৯৪টি আসনের এই লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।
- প্রথম দফার ভোট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- দ্বিতীয় দফার ভোট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- ফলাফল ঘোষণা: ৪ মে ২০২৬
ত্রিমুখী লড়াইয়ের সমীকরণ
এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই মূলত তিনটি শিবিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে:
- তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন এই দল গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক এবং মহিলা ভোটারদের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল। আঞ্চলিক অস্মিতা এবং সরকারি প্রকল্পকে হাতিয়ার করে তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া।
- ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP): শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ইস্যুকে সামনে রেখে টিএমসি-র দুর্গে হানা দিতে চাইছে।
- বাম-কংগ্রেস জোট: এক সময়ের শক্তিশালী এই শক্তি বর্তমানে নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করছে। সিপিএম এবং কংগ্রেসের এই মোর্চা সাধারণ মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্লেষণ
নির্বাচন পরবর্তী সমর্থন নিয়ে কংগ্রেসের এই অস্পষ্টতা তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় শিবিরের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। যদি একক কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তই রাজ্যের পরবর্তী সরকার গঠনের নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অধীর চৌধুরীর এই কৌশলী মন্তব্য কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখার একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা বলেই মনে করা হচ্ছে।
একঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল।
- নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে ২০২৬ তারিখে।
- তৃণমূলকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে অধীর চৌধুরী একে ‘কাল্পনিক’ বলে এড়িয়ে গেছেন।
- রাজ্যে সরকার গড়তে ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮টি আসন।
- বর্তমান লড়াই মূলত তৃণমূল, বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের মধ্যে।