বঙ্গভঙ্গ নয়, সাংবিধানিক পথেই মিটবে গোর্খা সমস্যা: পাহাড় নিয়ে বড় ঘোষণা অমিত শাহের

বঙ্গভঙ্গ নয়, সাংবিধানিক পথেই মিটবে গোর্খা সমস্যা: পাহাড় নিয়ে বড় ঘোষণা অমিত শাহের

পশ্চিমবঙ্গ বিভাজনের পথে না হেঁটে গোর্খা সমস্যার একটি স্থায়ী ও সাংবিধানিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা নিরসন এবং উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নে বিজেপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন।

গোর্খা সমস্যা ও সীমানা সুরক্ষা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন যে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ভাগ করার পক্ষে নয়। তবে দাজিলিং ও তৎসংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলের গোর্খাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যার সমাধান করা হবে দেশের সংবিধান মেনেই। এর পাশাপাশি তিনি অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক হিংসা ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চিরতরে বন্ধ করা হবে বলে তিনি হুঙ্কার দেন।

উত্তরবঙ্গের জন্য মেগা প্রকল্প

উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের মন জয়ে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে তৈরি করা হবে:

  • অখিল ভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট বা এমস (AIIMS)।
  • ৬০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক ক্যান্সার হাসপাতাল।
  • ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM)।
  • একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়।
  • গৌড়বঙ্গের রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলের অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি।
  • দার্জিলিংয়ে পরিবেশবান্ধব রোমাঞ্চকর ক্রীড়া কেন্দ্র স্থাপন।

কৃষি ও স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে অবস্থান

এলাকার আলু চাষিদের দুরাবস্থা কাটাতে শাহ প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আলু অন্যান্য রাজ্যে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। এতে চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন। একইসঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, বিরোধী শক্তির একাংশ তৃণমূলের মদতেই নির্দিষ্ট ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছে, যা বিজেপি হতে দেবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রভাব

অমিত শাহের এই বক্তব্য মূলত উত্তরবঙ্গের আদিবাসী, রাজবংশী এবং গোর্খা ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করার একটি কৌশল। একদিকে তিনি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী অবস্থান নিয়ে দক্ষিণবঙ্গের ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন, অন্যদিকে পাহাড়ের গোর্খাদের সাংবিধানিক সমাধানের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এই দ্বিমুখী কৌশল আসন্ন নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপির অবস্থানকে কতটা শক্তিশালী করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

একঝলকে

  • পশ্চিমবঙ্গ বিভাজন ছাড়াই গোর্খা সমস্যার সাংবিধানিক সমাধান করা হবে।
  • উত্তরবঙ্গে এমস, আইআইটি, আইআইএম এবং ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি।
  • রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলের মর্যাদা দেওয়ার কথা ঘোষণা।
  • রাজনৈতিক হিংসা ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করার কড়া বার্তা।
  • আলু চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ভিন রাজ্যে রপ্তানির সুযোগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *