বিচারপতির সন্তানদের হাতে হাজার হাজার কেস! কেজরিওয়ালের আরটিআই তথ্যে তোলপাড় বিচারব্যবস্থা

বিচারপতির সন্তানদের হাতে হাজার হাজার কেস! কেজরিওয়ালের আরটিআই তথ্যে তোলপাড় বিচারব্যবস্থা

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর আইনি লড়াই এখন এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার আদালতে একটি নতুন হলফনামা দাখিল করেছেন কেজরিওয়াল। সেখানে তিনি সরাসরি ‘স্বার্থের সংঘাত’ বা ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’-এর অভিযোগ তুলে বিচারপতিকে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। কেজরিওয়ালের এই পদক্ষেপ ভারতের বিচারব্যবস্থা ও সরকারের আইনজীবীদের পেশাদার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিচারপতির পরিবারের সঙ্গে তুষার মেহতার যোগসূত্র

কেজরিওয়ালের প্রধান অভিযোগ হলো, বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার দুই সন্তান ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার অধীনে কাজ করেন। উল্লেখ্য, এই মামলায় কেন্দ্র সরকার এবং সিবিআই-এর পক্ষে প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করছেন তুষার মেহতা। কেজরিওয়াল দাবি করেছেন, যেহেতু তুষার মেহতা নিজেই সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালতে সরকারি প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের মামলার দায়িত্ব বণ্টন করেন, তাই বিচারপতির সন্তানদের ক্যারিয়ার ও পেশাগত সুযোগ তাঁর হাতেই ন্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতির পক্ষে নিরপেক্ষ রায় দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আরটিআই তথ্যে চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান

কেজরিওয়াল তাঁর দাবির সপক্ষে ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত একটি আরটিআই (RTI) রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরেছেন। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বিচারপতির সন্তানদের বিপুল পরিমাণ সরকারি মামলা দেওয়া হয়েছে:

  • ২০২৩ সালে: বিচারপতির ছেলেকে মোট ২,৪৮৭টি মামলা বরাদ্দ করা হয়েছে।
  • ২০২৪ সালে: মামলার সংখ্যা ছিল ১,৭৮৪টি।
  • ২০২৫ সালে: ১,৬৩৩টি মামলা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই পেশাদার সম্পর্ক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সংযোগ, যা মামলার নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

নিরপেক্ষতার ধারণা ও আইনি যুক্তি

হলফনামায় কেজরিওয়াল সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে শুধু নিরপেক্ষ হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং জনমানসে বিচার বিভাগকে নিরপেক্ষ হিসেবে প্রতীয়মান হতে হবে। যেহেতু এটি কোনো সাধারণ বিবাদ নয়—বরং ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা—তাই এখানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি যুক্তি দেন যে, যদি মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবীই বিচারপতির পরিবারকে পেশাগত সুযোগ প্রদান করেন, তবে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি ‘নিমো জুডেক্স ইন কসা সুয়া’ (কেউ নিজের মামলায় নিজে বিচারক হতে পারে না) লঙ্ঘিত হয়।

একঝলকে

  • ইস্যু: বিচারপতি ও সরকারি আইনজীবীর যোগসূত্র নিয়ে কেজরিওয়ালের অভিযোগ।
  • প্রধান অভিযুক্ত: সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা।
  • আরটিআই তথ্য: বিগত তিন বছরে বিচারপতির সন্তানদের কয়েক হাজার সরকারি মামলা বরাদ্দ।
  • দাবি: স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বিচারপতির মামলা থেকে সরে যাওয়া (Recusal)।
  • আইনি ভিত্তি: সুপ্রিম কোর্টের ‘নিরপেক্ষতার ধারণা’ ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *