বিয়ে করলেই কি কমবে ক্যান্সারের ঝুঁকি? গবেষণায় উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য!

সুস্থ জীবনের জন্য বিয়ে কি অপরিহার্য? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই প্রশ্নকেই উসকে দিয়েছে। ‘ক্যান্সার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’ (Cancer Research Communications) নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে যে, অবিবাহিত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা এবং এই মারণ রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রায় ৪০ লক্ষ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর তথ্য এবং ১০ কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণার মূল তথ্য ও ভয়াবহ পরিসংখ্যান
আমেরিকার ‘সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টার’ এবং ‘ইউনিভার্সিটি অফ মিয়ামি মিলার স্কুল অফ মেডিসিন’-এর গবেষকরা ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী:
- অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০% বেশি।
- মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা আরও উদ্বেগজনক, যা প্রায় ৮৫% পর্যন্ত হতে পারে।
- অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
- অবিবাহিত মহিলাদের মধ্যে জরায়ুর মুখ বা সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের হার অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এ ছাড়াও ডিম্বাশয় ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকিও তাঁদের ক্ষেত্রে প্রবল।
মৃত্যুর ঝুঁকি ও মেটাস্ট্যাটিক ব্রেস্ট ক্যান্সার
‘নেচার’ (Nature) পত্রিকায় প্রকাশিত অপর একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব অবিবাহিত মহিলা মেটাস্ট্যাটিক ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত, তাঁদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। এই ধরণের ক্যান্সারে কোষগুলি স্তন ছাড়িয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা বিবাহিত মহিলাদের তুলনায় অবিবাহিতদের জন্য অধিক প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।
কেন বিবাহিতরা বেশি সুরক্ষিত
গবেষকদের মতে, বিয়ের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় এমন কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসে যা পরোক্ষভাবে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- সামাজিক ও মানসিক সমর্থন: বিবাহিত জীবনে সঙ্গীর উপস্থিতি মানসিক শক্তি যোগায়। একাকীত্ব বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (Social Isolation) অনেক সময় শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
- দ্রুত রোগ নির্ণয়: সঙ্গীর অনুপ্রেরণায় বিবাহিত ব্যক্তিরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ক্যান্সার স্ক্রিনিং করান। ফলে রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
- সুশৃঙ্খল জীবনযাপন: পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, বিবাহিত ব্যক্তিরা সাধারণত মদ্যপান বা ধূমপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকেন। এছাড়া স্বাস্থ্য বিমা বা চিকিৎসার খরচ জোগানোর ক্ষেত্রেও তাঁরা বেশি সচেতন থাকেন।
এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে, কেবল জৈবিক কারণে নয়, বরং উন্নত জীবনধারা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসার সাহায্য পাওয়াই বিবাহিতদের ক্যান্সার মুক্ত থাকতে বা মারণ রোগের সাথে লড়াই করতে বাড়তি সুবিধা দেয়।
একঝলকে
- অবিবাহিত পুরুষদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বিবাহিতদের চেয়ে ৭০% বেশি।
- অবিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৮৫%।
- অবিবাহিত পুরুষদের মলাশয় ক্যান্সারের আশঙ্কা ৫ গুণ বেশি।
- অবিবাহিত মহিলাদের সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩ গুণ বেশি।
- গবেষণার ভিত্তি: ৪০ লক্ষ ক্যান্সার রোগী ও ১০ কোটি মানুষের তথ্য (২০১৫-২০২২)।
- সুরক্ষার কারণ: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সমর্থন ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন।