হোর্মুজ প্রণালীতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিধ্বংসী হামলা, ইরানজুড়ে লাশের সারি ও হুলুস্থুল কাণ্ড

ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের ৩০তম দিনে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রোববার সকালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্ট্রেট অফ হোর্মুজ’ বা হোর্মুজ প্রণালীতে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ অভিযানে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার তথ্যমতে, হরমুজগান প্রদেশে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে, তবে নিহতরা কোন দেশের নাগরিক তা এখনও স্পষ্ট নয়।
একই সময়ে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলের দাবি, তারা তেহরানের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত ব্যালেস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র, অস্ত্রাগার এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সদর দপ্তরগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নজরদারি চৌকিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর সমর্থনে তারা দক্ষিণ ইসরায়েলের একাধিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় মিসাইল হামলা চালিয়েছে। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথম দফার হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছিল, কিন্তু হুথিদের এই ক্রমাগত আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
তেহরানের সরকারি ভবন ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতেও বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তারা এ পর্যন্ত ইরানের ১০০০-এর বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।