কুয়েতে ইরানের মিসাইল হামলা আর প্রাণ হারালেন ভারতীয় কর্মী

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন শুধু বারুদের গন্ধ। ইরান ও কুয়েতের মধ্যকার এই সংঘাতের বলি হতে হলো এক নিরপরাধ ভারতীয়কে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও জল শোধন কেন্দ্রে (ডিহ্যালিনেশন প্ল্যান্ট) ইরানের অতর্কিত হামলায় তছনছ হয়ে গিয়েছে সার্ভিস বিল্ডিং। সেখানেই কর্মরত অবস্থায় প্রাণ হারান ওই ভারতীয় নাগরিক। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আট ছুঁল নিহতের সংখ্যা আর নিখোঁজ এক
পরিসংখ্যান বলছে পরিস্থিতি ক্রমেই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত দিল্লিতে সরকারি ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ৭ জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন। আজ কুয়েতের ঘটনাটি যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮। এছাড়া এখনও একজন ভারতীয়র কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। ওমান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভারতীয় দূতাবাসগুলো নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে।
উদ্ধারকাজ ও ভারতের তৎপরতা
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪.৭৫ লক্ষ ভারতীয়কে সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সৌদি আরব ও ওমানের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করে এই বিশাল উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে যেমন জর্ডান, আর্মেনিয়া বা ইজরায়েল হয়ে ভারতীয়দের ফেরানোর তোড়জোড় চলছে।
শোকার্ত পরিবার ও নিথর দেহের অপেক্ষা
গত সপ্তাহেই আবুধাবিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন এক ভারতীয়। তাঁর মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলাকালীনই কুয়েত থেকে এল এই নতুন দুঃসংবাদ। প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণায় কাতর পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত মরদেহগুলো দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি কবে শান্ত হবে তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।