সন্দেশখালিতে বিজেপির সাজানো চক্রান্ত রুখতে মমতার বড় চাল!

সন্দেশখালিতে বিজেপির সাজানো চক্রান্ত রুখতে মমতার বড় চাল!

নিজস্ব প্রতিনিধি, সন্দেশখালি: রাজ্যের যে প্রান্ত থেকে নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গোটা বাংলায় আলোড়ন ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিজেপি, সেখানেই ‘ঘরের মেয়ে’-কে প্রার্থী করে মোক্ষম জবাব দেওয়ার পথ বেছে নিল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা ব্রিগেডের লড়াকু সৈনিক ঝর্ণা সর্দার এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে হুঙ্কার দিলেন, ‘বিজেপি নামক অসুর বধ করে সন্দেশখালিতে নতুন সূর্যোদয় আনব।’

উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি বছর দু’য়েক আগে রাতারাতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। তৎকালীন সময়ে বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল যে, স্থানীয় মহিলাদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে তৃণমূলের নেতারা। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আন্দোলনকারী রেখা পাত্রকে প্রার্থী করে নয়া মেরুকরণের চেষ্টা করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাশা উল্টে যায়। বিজেপির স্থানীয় মন্ডল নেতা গঙ্গাধর কয়ালের বিস্ফোরক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, গোটা বিষয়টি ছিল বাংলাকে কালিমালিপ্ত করার একটি পরিকল্পিত ছক।

সন্দেশখালির মানুষও এই চক্রান্তের বিষয়টি দ্রুত উপলব্ধি করেন, যার প্রতিফলন ঘটেছিল লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে। বসিরহাটের মানুষ রেখা পাত্রকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে এবার বিধানসভা নির্বাচনে রেখা পাত্রকে আর ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করার সাহস দেখায়নি বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল বাজি ধরেছে ভূমিপুত্র ঝর্ণা সর্দারের ওপর।

প্রার্থী হওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী ঝর্ণা বলেন, ‘নোংরা খেলায় নেমে সন্দেশখালির বদনাম করেছিল বিজেপি। তারা আসলে বাংলার মা-বোনেদের অপমান করেছিল। সেই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার মতো এক সাধারণ ঘরের মেয়েকে সুযোগ দিয়েছেন। বিজেপিকে সন্দেশখালির মাটিতে রাজনৈতিকভাবে বধ করাই এখন আমাদের লক্ষ্য।’ কলকাতা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের এই জনপদ কি এবার ঝর্ণা সর্দারের হাত ধরেই নারী সুরক্ষায় নতুন ইতিহাস লিখবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

সন্দেশখালির এই রাজনৈতিক লড়াই এবার কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। ঘরের মেয়ে বনাম বহিরাগত তকমা দিয়ে তৃণমূল যে এই কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া, তা ঝর্ণা সর্দারের মনোনয়ন থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *