খেলা শেষ ঘাসফুলে! লিয়েন্ডার পেজ কি এবার গেরুয়া ঝড়ে ওড়াবেন বিজেপির বিজয় নিশান?

২০২৬ সালের মেগা লড়াইয়ের আগে বাংলার রাজনীতিতে সবথেকে বড় ধামাকা! আজ মঙ্গলবার দিল্লির সদর দপ্তরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিনের পুরনো শিবির ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে নাম লেখালেন টেনিস সম্রাট লিয়েন্ডার পেজ। দীর্ঘ ৪০ বছর টেনিস কোর্টে দাপিয়ে বেড়ানোর পর এবার পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়ে সরাসরি দেশের সেবায় নামার অঙ্গীকার করলেন এই কিংবদন্তি তারকা।
বিজেপির উত্তরীয় গলায় পরে লিয়েন্ডার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন যে, দেশের জন্য খেলা আর দেশের মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এবার তিনি বাংলার যুব সমাজের উন্নয়ন ও রাজ্যের সার্বিক প্রগতির জন্য কাজ করতে বিশেষভাবে আগ্রহী। উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে লিয়েন্ডার মমতার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন এবং গোয়া থেকে বাংলা সর্বত্র ঘাসফুলের হয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছরের মাথায় তাঁর এই রাজনৈতিক ভোলবদল নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
সূত্রের খবর যে, গত ২৪ মার্চ কলকাতায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা নীতিন নবীনের সঙ্গে লিয়েন্ডারের গোপন বৈঠকের পরেই দলবদল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। লিয়েন্ডারকে সামনে রেখে বিজেপি এবার বাংলা জয়ের ব্লু-প্রিন্ট সাজাচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে তিনি নিজে প্রার্থী হবেন নাকি কেবল স্টার প্রচারক হিসেবে মাঠ কাপাবেন তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
অন্যদিকে লিয়েন্ডারের যোগদানের দিনেই বিজেপি তাদের চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে হইচই ফেলে দিয়েছে। ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন একাধিক চমকপ্রদ মুখ। চৌরঙ্গীতে কংগ্রেস ত্যাগী সন্তোষ পাঠককে প্রার্থী করে পুরনো কর্মীদের চমকে দিয়েছে দল। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরের ওপর ভরসা রেখেছে বিজেপি।
তালিকায় আরও জায়গা পেয়েছেন সিতাইয়ে আশুতোষ বর্মা, হাওড়া দক্ষিণে শ্যামল হাতি এবং মগরাহাট পূর্বে উত্তমকুমার বণিক। মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে লড়বেন পীযূষকান্তি দাস এবং মেমারিতে টিকিট পেয়েছেন মানব গুহ। এদিকে ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে চমকপ্রদভাবে আগের প্রার্থী কৌশিক রায়কে সরিয়ে ডালিম রায়কে নতুন মুখ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। নির্বাচনের মুখে লিয়েন্ডারের যোগদান এবং নতুন এই প্রার্থী তালিকা জোড়াফুল শিবিরের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে তা নিয়ে এখন সরগরম বাংলার অন্দরমহল।