ভবানীপুরে মমতার লক্ষ্য, এবার ৮ এপ্রিল বিশাল র্যালি করে জমা দেবেন মনোনয়নপত্র
তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন্ন নির্বাচনী সূচি ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আগামী ৮ এপ্রিল ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে আলিপুরে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিশেষ বিষয় হলো, এদিন একা নন, বরং বিশাল একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বা মিছিল করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বুধবার বীরভূমের নানুরে দলীয় জনসভা চলাকালীনই তৃণমূলের পক্ষ থেকে নেত্রীর আগামী ১ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিস্তারিত কর্মসূচির তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী আট দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো প্রচার চালাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দীর্ঘ কর্মসূচিতে বীরভূম, দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রচারের এই ঠাসা সূচি শেষ করেই তিনি কলকাতায় ফিরবেন এবং নিজের খাসতালুক ভবানীপুরের জন্য মনোনয়ন পেশ করবেন। তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বীরভূম থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ও নবগ্রামে প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করবেন। এরপর ২ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি ও সুতি হয়ে তিনি পা রাখবেন মালদহের বৈষ্ণবনগরে। ৩ এপ্রিল তাঁর গন্তব্য দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর এবং উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। একই দিনে মালদহের হবিবপুরে তৃতীয় জনসভাটি করবেন তিনি। উত্তর ও মধ্যবঙ্গের জেলাগুলিতে সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য।
৪ এপ্রিল মালদহের মানিকচক, রতুয়া, মালতিপুর এবং গাজোলে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। ৫ এপ্রিল ফরাক্কা ও সামশেরগঞ্জের প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার সেরে তিনি পুনরায় বীরভূমের মুরারই ও মুর্শিদাবাদে জনসভা করবেন। ৬ এপ্রিল নদিয়ার কৃষ্ণনগর এবং পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ে প্রচার সারবেন নেত্রী। এরপর ৭ এপ্রিল রানাঘাট, বনগাঁ ও বারাসাতের গুমাবাজারে প্রচারের কাজ শেষ করবেন তিনি। প্রতিটি জেলাতেই দলের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামছেন তৃণমূল নেত্রী।
সর্বোপরি, ৮ এপ্রিলের কর্মসূচির দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। ওইদিন কলকাতায় আয়োজিত র্যালিটি কার্যত তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবানীপুরের ভোটারদের মধ্যে সেন্টিমেন্ট ধরে রাখা এবং বিরোধী পক্ষকে কড়া বার্তা দিতেই এই জাঁকজমকপূর্ণ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই আট দিনের কর্মসূচি তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারকে এক নতুন মাত্রা দেবে বলেই মত অভিজ্ঞ মহলের।